গণভবনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের ২১ জনের সঙ্গে বসবেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১৫ জন নেতাদের বহুপ্রতিক্ষিত সংলাপ হতে যাচ্ছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের জন্য খোলামেলা আলোচনা হবে। সাংবিধানিক নানা দিক নিয়ে হবে পর্যালোচনা এবং সংলাপে থাকবে না কোনো পূর্বশর্ত। আলোচনা শেষে অনেক কিছুই পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রবিবার রাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ড. কামাল হোসেনের চিঠি। একদিন পর মঙ্গলবার সকালে সে চিঠির জবাব পাঠান প্রধানমন্ত্রী। ফ্রন্টের নেতাদের আমন্ত্রণ জানান গণভবনে। আচমকাই রাজনীতিতে স্বস্তির হাওয়া।
প্রায় ১২ বছর পর আওয়ামী লীগের এক সময়ের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বসতে যাচ্ছেন দলটির সভানেত্রী। সে বৈঠকে থাকবেন বিএনপি নেতারাও। দেশজুড়ে আলোচনা, কি হতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার রাতে গণভবনে?
সংলাপে একদিকে, আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতৃত্ব দেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও থাকবেন উপদেষ্টা পরিষদের দুইজন, সভাপতিমণ্ডলীর ছয়জন, সম্পাদকমণ্ডলীর ছয়জন সদস্য।
জোট নেতাদের মধ্যে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মাঈনুদ্দীন খান বাদল, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন আর সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া। থাকবেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও।
এদিকে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দেবেন গনফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। দলের স্থায়ী কমিটির চারজন আর মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির পাঁচজন, গণফোরামের একজন নির্বাহী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেএসডি'র সভাপতি আ সম আব্দুর রবসহ তিনজন, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ দুইজন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী ছাড়াও ঐক্যফ্রন্টের সদস্যসচিব ও একজন সদস্য অংশ নেবেন।
২ নভেম্বর, সংলাপ হবে বিকল্প ধারার সঙ্গে। সংলাপের আগ্রহ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জাতীয় পার্টিও। তফসিল ঘোষণার আগে আগ্রহী সবার সঙ্গেই আলোচনা করতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।