নির্বাচন পিছিয়ে সরকারের মেয়াদপূর্তির পরের ৯০ দিনে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার আদলে ভোটগ্রহণের দাবি তুলেছেন
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।
আর তাদের দাবি সংবিধানের বাইরে উল্লেখ করে তা মেনে নেবার অবকাশ নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফা সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবির মধ্যে সংবিধানসম্মত দাবিগুলো মেনে নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজকের সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে একজন উপদেষ্টা ও ১০ সদস্যের উপদেষ্টাবিশিষ্ট নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব দিলে তা নাকচ হয়ে যায়।
ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দ্বিতীয় দফা সংলাপে গণভবনে গিয়ে লিখিতভাবে এ প্রস্তাব দেয়। আওয়ামী লীগ ঐক্যফ্রন্টের এ প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। এ ছাড়া সংসদ ভেঙে দেয়া, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির বিষয়ে সরকার ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একমত হতে পারেনি।
নির্বাচন সামনে রেখে বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় দফা সংলাপ শেষে এ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন ওবায়দুল কাদের।
একাদশ জাতীয় সংদস নির্বাচন নিয়ে গণভবনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফা সংলাপের শুরুতেই ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ সফল হওয়ায় প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে প্রথমেই সরকারের মেয়াদপূর্তি অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারির পরের ৯০দিনে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার আদলে ভোট গ্রহণের দাবি জানান ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।
ওই সরকারে তাদের পক্ষ থেকে ১০ জন প্রতিনিধি রাখারও প্রস্তাব দেন তারা।
এছাড়া লেভেল প্লেইং ফিল্ড, বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকা, সভা সমাবেশ নির্বিঘ্নে করার অনুমতি, মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি তুলে ধরা হয় সংলাপের টেবিলে।
সংবিধানের ভেতরে থাকা সকল দাবি মেনে নিতে অনাপত্তি জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রায় তিন ঘণ্টার আলোচনা শেষে বের হয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি সংবিধানসম্মত নয় তাই তা মেনে নেয়ার সুযোগ নেই।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো দাবি রাজবন্দিদের মুক্তির বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
যদি কোনো রাজবন্দি থেকে থাকেন তবে তাদের মুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে বলেছেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এবারও ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে খোলামেলা সংলাপ হয়েছে। তবে সংলাপের বিস্তারিত তুলে ধরে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন চাইছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা থাকবে না। তবে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। সাত দফার বেশির ভাগই প্রধানমন্ত্রী মেনে নিতে সম্মত হয়েছেন।
খালেদা জিয়ার মুক্তি না, জামিন চেয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ বলেছে, এটা আদালতের বিষয়।
বেলা সোয়া ২টার দিকে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা গণভবন থেকে বের হন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম সেখান থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন—ঐক্যফ্রন্ট তফসিল পেছানোর কথা বলেছে। তবে আওয়ামী লীগ বা সরকার বলেছে, এটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার।
এর আগে গত ১ নভেম্বর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে সংলাপে বসে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সাড়ে ৩ ঘণ্টার ওই সংলাপে আশানুরূপ ফল না আসায় আবার স্বল্প পরিসরে এ সংলাপে বসা হয়।