একাদশ জাতীয় নির্বাচন সরকারের তৈরি করা নীলনকশা অনুযায়ী হয়েছে –দাবি করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।
এ নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন দাবি করে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানানো হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক অবস্থান কর্মসূচিতে উঠে আসে এসব কথা।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বৃহস্পতিবার সকালে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে মুখে কালো কাপড় বেঁধে রাজধানীসহ সারাদেশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বামগণতান্ত্রিক জোট।
রাজধানীতে কর্মসূচি পালনের পর বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়েন সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স।
তিনি বলেন, গোটা দেশকে অবরুদ্ধ করে কোটি কোটি ভোটারের ভোটাধিকার হরণ করে আরও একবার জবরদস্তিমূলক প্রহসনের নির্বাচন মঞ্চস্থ করা হল। বাম গণতান্ত্রিক জোট এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার নামে ভয়ভীতি ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘ন্যাক্কারজনক’ ভূমিকা, বাম জোটসহ বিরোধীদলগুলোর প্রার্থী ও এজেন্টদের আটক, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, কেন্দ্র থেকে জোর করে বের করে দিয়ে দেশবাসীকে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে সরকারের ছকে নির্বাচন বাস্তবায়ন করা হয়েছে অভিযোগ করে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ভোর থেকেই দেশব্যাপী ভোট কেন্দ্র দখল, প্রকাশ্য জালিয়াতি, ব্যালট পেপার প্রকাশ্য নৌকা মার্কায় সিল মারতে বাধ্য করা হয়েছে।
এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্বাচনকে অর্থহীন ও হাস্যকর করে তোলা হয়েছে বলেন তিনি।
দলীয় সরকারের অধীনে যে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না এই নির্বাচন তার অন্যতম উদাহরণ বলে জানান জোটের এ নেতা।
এই নির্বাচনের ফলাফল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানান তিনি।
এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে সারাদেশের মানুষকে ভোটের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানান জোটের নেতারা।
পরে, আগামী ১১ মার্চ বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থীদের নিয়ে গণশুনানি করার কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।