বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সারাদেশে একদিকে চলছে গুম খুন অপহরণ আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অপরদিকে রয়েছে ছাত্রলীগ-যুবলীগের টর্চার সেল। এই টর্চার সেলগুলোই ২৯ ডিসেম্বর রাতে বর্তমান সরকারের উৎস।
বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় রুহুল কবির রিজভী বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় খুনিদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, যে কারণে আবরারকে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে সেদিক থেকে দৃষ্টি ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার। দেশের মাটি, পানি, আকাশের স্বার্থে স্ট্যাটাস দেওয়ায় বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রিজভী বলেন, আবরারের স্ট্যাটাসের পেছনে কারণই ছিল দেশবিরোধী চুক্তির বিরোধিতা ও সত্য ইতিহাস তুলে ধরা। আর জনগণের সাথে দিনে দুপুরে প্রতারণা করে দেশবিরোধী চুক্তিটি করেছে সরকার। সুতরাং আবরার খুনের দায় সরকারও এড়াতে পারে না। দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল ছাড়া আবরারের আত্মা শান্তি পাবে না।
এসময় তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র বুয়েট ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহাকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিও জানান।
রিজভী বলেন, একদিকে বাংলাদেশের পক্ষের জনগণ আর অপরদিকে ছাত্রলীগ-যুবলীগ, হাতুড়ি লীগ সরকারি লীগের সন্ত্রাসীরা। এই সন্ত্রাসীরা জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই সন্ত্রাসীদের কাছে নিজ দেশের স্বার্থ বড় নয়। তাই বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে কথা বলতে চায়, লিখতে চায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের এতো ক্ষোভ। এতো প্রতিহিংসা। এতো জিঘাংসা। দেশের স্বার্থের পক্ষে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসও এই সন্ত্রাসী এবং তাদের রাজনৈতিক গডফাদারদের বুকে কাঁপন ধরায়।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবীর মুরাদ, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, আবদুল আউয়াল খান, সেলিমুজ্জামান সেলিম উপস্থিত ছিলেন।