বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দুদিনের বৃষ্টিপাতেই রাজধানীর জলাবদ্ধতা সরকারের উন্নয়নের নমুনা। বৃষ্টিতে ঢাকার কোথাও চলাচল করা যায় না। পথ-ঘাট সব ডুবে গেছে। গাড়িতে করে বাসা পর্যন্ত যেতে এক কোমর পানি ডিঙিয়ে যেতে হচ্ছে। গোটা ঢাকা মহানগরীর মানুষজন জলাবদ্ধতার ভয়ঙ্কর দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। আর এতদিন উন্নয়নের নানা মডেল, নানা কল্পকাহিনী শুনে শুনে আমরা একেবারে অস্থির হয়ে গেছি।
মঙ্গলবার নয়া পল্টনে স্কাউট ভবনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের উদ্যোগে সদ্য প্রয়াত বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন। আলোচনা সভার পর আউয়ালের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিজভী বলেন, কোথায় সেই উন্নয়ন? উন্নয়ন ফ্লাইওভারের, উন্নয়ন মেগা প্রজেক্টে। কারণ ওখান থেকে যে টাকা পকেটের মধ্যে আসে, লুটপাট করা যায় তা অন্য খাত থেকে সেভাবে আসে না। হাসপাতাল তৈরি করতে এর সরঞ্জামাদি ভেন্টিলেটার, অক্সিজেন সিলিন্ডার সবকিছু মন্ত্রীর লোকেরাই আমদানি করেন, তার ছেলে করে, আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট ছাড়া আর কেউ করতে পারে না।
তিনি বলেন, উপজেলা-জেলা লেভেলের হাসপাতাল যেন নরকের পরিণত হয়েছে। গরীব রোগীরা বারান্দায় দিনের পর দিন পড়ে থাকছেন। ওইসব হাসপাতালের ডাক্তার দুই-তিন দিন পর আসেন। যেসব প্রতিষ্ঠান মানুষকে সেবা দেবে, উপকার করবে সেসব প্রতিষ্ঠানগুলো সরকার ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। আর যতটুকু তারা (সরকার) করেছে সম্পূর্ণ আত্মাসাৎ করার মনমানসিকতা থেকে। দুই-একটা সাহেদকে ধরে দৃষ্টিটাকে অন্য দিকে সরানোর চেষ্টা। বিশাল দুর্নীতির যে স্বর্গরাজ্য সেই স্বর্গরাজ্য আড়াল করার চেষ্টা করছে। কত যে সাহেদ, কত দে সাবরিনা এই সমাজের মধ্যে আপনাদের (সরকার) দৌরাত্মে, আপনাদের কারণে তৈরি হচ্ছে যা অজানাই থেকে যাচ্ছে।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে কৃষক দলের মাইনুল ইসলাম, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মাওলানা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষক নেতা আবদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।