বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জিয়াউর রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেসব কথা বলেছেন তা শুধু নজিরবিহীন নয়; আপত্তিকর, অরুচিকর।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কথা বাদই দিলাম, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবেও তিনি এ ধরনের কথা বলতে পারেন বলে আমি মনে করি না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- ২৫ মার্চ যখন দেশবাসী রাস্তায় ব্যারিকেড দিচ্ছিল তখন চট্টগ্রামে জিয়াউর রহমান গুলি করেছেন। কত বড় ইতিহাস বিক্রিতকারী প্রধানমন্ত্রী তিনি?
গতকাল সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ঐতিহাসিক ৭ মার্চের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী একাত্তরে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হামলা ঠেকাতে দেশের মানুষ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সারা দেশে রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিচ্ছিল। এরমধ্যে চট্টগ্রামে যারা ব্যারিকেড দিচ্ছিল, তাদের ওপর যারা গুলি চালিয়েছিল তার মধ্যে জিয়াউর রহমান একজন। সেদিন জিয়া অনেককে গুলি করে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, ২৫ ও ২৬ মার্চ এ দুদিনই হত্যাকাণ্ড চালায় জিয়াউর রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার তো কিছুই বলার নেই। তাই প্রতিদিন বানানো মিথ্যাচার এই কথাগুলো বলছেন।
রিজভী বলেন, আসলে আলজাজিরায় এই সরকারের কুকীর্তি নিয়ে চারদিক থেকে এত ধিক্কার উঠেছে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের যেসব নেতৃবৃন্দ ছিলেন জাতীয় পর্যায়ে তাদের সন্তানরা যেসব বই লিখছেন এবং শেখ হাসিনার কেবিনেটে যেসব মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তারা যেসব বই লিখছেন, সেখানে জিয়াউর রহমানকে যেভাবে মহিমান্বিত করেছেন, স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে তার যেসব অবদান- শেখ হাসিনা এগুলোকে ঢাকা দিতে পারেন না, আড়াল করতে পারছেন না। তাই উনার এত গাত্রদাহ।
রিজভী বলেন, ২৫ মার্চ জিয়াউর রহমানের ঘোষণা একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা। রাজনীতিবিদ, গবেষক সবাই এটাকে শুধু স্বীকারই করেন না, তারা এটা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। শুধুমাত্র শেখ হাসিনা করেন না। ইতিহাস গবেষণা বিশেষ করে শেখ হাসিনার কেবিনেটের বিশেষ ব্যক্তিদেরও গবেষণায় এবং স্মৃতিচারণে মেজর রফিকুল ইসলামের বইতে, একে খন্দকারের বইতে স্পষ্টভাবে জিয়াউর রহমানের বিষয় উঠে এসেছে। সুতরাং শেখ হাসিনার তো কিছুই বলার নেই। তাই প্রতিদিন বানানো মিথ্যাচার এই কথাগুলো বলছেন।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, এখন সত্যি প্রমাণিত হয়েছে- আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা চায়নি। তাদের নেতা আজকের প্রধানমন্ত্রীর পিতা বৃহত্তর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। যারা যুদ্ধ শুরু করেছেন, প্রধানমন্ত্রী হতে দেয়নি এটার কারণেই তাদের ক্ষোভ। জিয়াউর রহমান জাঞ্জুয়াকে হত্যা করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। সেই ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, যারা চট্টগ্রামে ব্যারিকেড দিয়েছেন তাদের নাকি হত্যা করেছেন। জিয়াউর রহমানের শত্রুরাও একথা বলতে পারবেন না। যে ব্যক্তি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কমান্ডারকে হত্যা করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন তার প্রতি কীভাবে কলঙ্ক লেপন করলেন? তাই বুঝতে হবে, শেখ হাসিনারাই ছিলেন বৃহত্তর পাকিস্তানের পক্ষে। এজন্য যারা স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধে গেলেন তাদের প্রতি চরম ক্ষোভ তাদের। এজন্য জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছেন তারা।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজ থেকে প্রায় ২০ থেকে ২২ বছর আগে হাইকোর্টের যে অবজারভেশন প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্কে ‘রং হেডেট পারসন’ সেটা আবারও প্রমাণ হলো। প্রমাণ হলো- তিনি মানসিক রোগী, মানসিক বিকারগ্রস্ত। গতকাল (সোমবার) প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এটাই প্রমাণিত হয়। একজন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে এসমস্ত কথা কেউ বলতে পারে না। আমি এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
তিনি আরও বলেন, একদলীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রতিদিনের যে নির্যাতন সে নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। সেখান থেকে কিন্তু কখনোই বিচ্যুত হয়নি সরকার। এই নির্যাতন কেন করতে হচ্ছে। এটা করতে হচ্ছে এজন্য যে, দেশে সুষ্ঠু গণতন্ত্রের ধারা চালু হলে মানুষ সত্যি ইতিহাস নিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। বিএনপির কোনো কর্মসূচি থাকুক বা না থাকুক কিন্তু নেতার্মীদের গ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গতকাল (সোমবার) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা জেলার সহ-সভাপতি তমিজউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার অপরাধ এই সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলনে সক্রিয় থাকে সেই কারণেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্তাজুল করিম বাদরু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। / যু