চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবর নেই, তবুও বিএনপি সেখানে গিয়ে বিশৃঙ্খলা করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চন্দ্রিমা উদ্যানের কবরে কি জিয়াউর রহমানের লাশ আছে? কেউ কি জিয়াউর রহমানের লাশ দেখেছে? এমন প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চন্দ্রিমা উদ্যানের কবরে যে জিয়াউর রহমানের লাশ নেই সেটা খালেদা জিয়াও জানেন।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ (২৬ আগস্ট) ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে বক্তব্যে তিনি বলেন, ৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা হয়েছে। শুধু বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি ষড়যন্ত্রকারীরা। বাংলাদেশে আসার পর তাকেও বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ষড়যন্ত্র এখনও চলছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এদেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরাই আমার পরিবার। আমার নিজের জন্য কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। দেশের মানুষকে উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবন দেয়াই আমার উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, আমার মৃত্যু ভয় নেই। আমার কোনো আকাঙ্খাও নেই। আমি মনে করি আওয়ামী লীগ আমার পরিবার। বাংলাদেশ আমার পরিবার। এই দেশের নামটাও বঙ্গবন্ধুর ঠিক করা ছিল। পতাকাও। তিনি খাবারের টেবিলে বসে বলেন, জাপান উদিত সূর্যের দেশ। সাদা জমিনে লাল সূর্য। আমাদের সবুজ দেশে হবে সবুজ জমিনে লাল সূর্য। সেই তারই হাতে গড়া বাংলাদেশে তাকে নির্মমভাবে হত্য করেছে সেনা সদস্যরা।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের মনে বাংলাদেশের অস্তিত্ব ছিল না। তিনি তখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্য। সেসময় জিয়াউর রহমান সোয়াদ জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করতে যাচ্ছিল। তখন পাবলিক তাকে ঘেরাও করে ধরে নিয়ে আসে। সেসময় জিয়ার হাতে অনেক সংগ্রমীরা নিহত হন চট্টগ্রামে। ব্যারিকেড দেয়া অনেক আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীকে গুলি করে জিয়া। ৭ ই মার্চের ভাষণও প্রথম পাঠ করেন হান্নান সাহেব। পরে একে একে সবাই পাঠ করে। কিন্তু নেতাকর্মীরা মনে করেন কোনো সামরিক অফিসারকে দিয়ে পাঠ করালে যুদ্ধ মনে হবে। তখন মেজর রফিক যুদ্ধে ছিলেন। সেখান থেকে আসা সম্ভব ছিলে না। তাই জিয়াউর রহমনকে দিয়ে পাঠ করান। তবে প্রথমে পাঠ করতে তার অনেক আপত্তি ছিল। তারপরই তার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ।
জিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের নেতাকর্মীর কাছ থেকে শুনা যায় তাকে সবাই রিট্রেট অফিসার বলতেন। যুদ্ধ হলে তিনি তিন মাইল দূরে অবস্থান করতেন। জিয়ার কিন্তু কোথাও যুদ্ধ করার কোনো ইতিহাস নেই। আহত হওয়ারও কোনো খবর পাওয়া যায়নি। / যভো