সকল বিরোধী রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও অংশীজনের মতামত উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন বিনা ভোটের সংসদে পাশের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী স্বৈরশাসনকে পাকাপোক্ত করার নতুন নীল নকশাই বাস্তবে করা হলো। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান আজ ২৭ জানুয়ারি ২০২২ সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান আরও বলেন, সংবিধানে আইনী ভিত্তির উপর নির্বাচন কমিশন গঠনের ঘোষণা থাকলেও স্বাধীনতার ৫০ বছরেও শাসক শ্রেণি নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহে পদাধিকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন আইন প্রণয়ন না করে সংবিধান লংঘন করে দেশ পরিচালনা করে এসেছে। এতে স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণআকাঙ্খা গণতন্ত্রকে গণপ্রহসনে এবং ভোটাধিকারকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে।
এখন বর্তমান সরকার নিজেদের আকাঙ্খা অনুযায়ী আগামী নির্বাচনী ফলাফল নিশ্চিত করতেই সর্বস্তরের গণতন্ত্রমনা জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে অত্যন্ত সংগোপনে, রকেট গতিতে ভোট ডাকাতির অবৈধ সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নির্বাচন কমিশন গঠনের আইন প্রণয়ন করে বাংগালী জাতির ইতিহাসে আরেকটি কালো অধ্যায় রচিত করলো।
বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, বর্তমান শাসক দল স্বাধীনতার পর সংবিধানের ২য় সংশোধনীর মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মৌলিক অধিকার পরিপন্থি কালো আইন প্রণয়নের সিংহদ্বার উন্মোচন করে। যার ফলে মৌলিক অধিকার হরণকারী নিবর্তনমূলক কালো আইন ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন’ প্রণীত হয়। যা পরবর্তীতে অপরাপর বুর্জোয়া শাসক দলও কাজে লাগিয়েছে এবং কোন কোন কোন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে বিরোধী মত দমনের আইন প্রণয়ন করেছে। সর্বশেষ সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী নির্বাচনী ফল নিশ্চিত করনের আইন আজ সংসদে পাশ করলো আওয়ামী লীগ।
ফলে বর্তমান সরকারের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কবল থেকে দেশ ও জনগণকে মুক্ত করতে সকল বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।