বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সার্চ কমিটি যাদেরকে দিয়ে করা হয়েছে তারা সবাই আওয়ামী লীগের লোক। তাদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাবিত তালিকায় যাদের নাম প্রস্তাব করা হবে তারাও একেকজন বিদায়ী সিইসি কেএম নুরুল হুদা হবেন। সেরকমভাবেই নির্বাচন কমিশন গঠিত হতে যাচ্ছে দেশে। সার্চ কমিটিসহ নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে যা যা করা হচ্ছে সব কিছু জনগণকে বোকা বানানোর জন্য।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ‘ফসলের মাঠে কৃষকের আত্মহত্যা: ফ্যাসিবাদী শাসনের খণ্ডচিত্র’ শীর্ষক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি শেরপুরের নালিতাবাড়ীর মানিকচাঁদ গ্রামে প্রভাবশালী মহলের সেচ পাম্প স্থাপনে বাধার প্রতিবাদে শফিউদ্দিন নামে এক কৃষক আত্মহত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারই প্রেক্ষিতেই এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো নির্বাচিত হতে আওয়ামী লীগ তাদের মতো করে নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। এই কমিশন গঠন করার জন্য একটা সার্চ কমিটি গঠন করেছে, আইনও তৈরি করেছে। তবে এ কিছুই ধোকা ছাড়া কিছুই নয়।
বিদায়ী সিইসির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে- কিচ্ছু নাই এটার মধ্যে। বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া, বাংলাদেশের মানুষের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য তার বিচার হতে হবে। তাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে, অবশ্যই দাঁড়াতে হবে।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সরকারকে জবাব দিতে হবে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির দাম বারবার বৃদ্ধি করা হচ্ছে। শুধুমাত্র চুরির জন্য এসব দাম বাড়ানো হচ্ছে। চাল-ডাল-তেলেল দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে আমাদেরকে দাঁড়াতে হবে। অবশ্যই দাঁড়াতে হবে। মাথাপিছু মানুষের আয়বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের পরিসংখ্যানও মিথ্যা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে সভায় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, সহসভাপতি গৌতম চক্রবর্তীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।