ভোজ্যতেল, গ্যাস, পানি-বিদ্যুৎ-সিলিন্ডার গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজপথে মিছিল করেছে গণসংহতি আন্দোলন। মিছিলটি সচিবালয় অভিমুখে গেছে পুলিশ তাতে বাধা দেয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কদম ফোয়ারা এলাকা ঘুরে পুরানা পল্টন হয়ে জিরো পয়েন্টে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
মিছিল করে সচিবালয়ের দক্ষিণ গেইটের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করার কর্মসূচির আগে থেকেই ঘোষণা করেছিল সংগঠনটি।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দুপুর সোয়া ১টার দিকে সচিবালয়ের কাছাকাছি গেলে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের ধাক্কাধাক্কি হয়।
পরে জিরো পয়েন্টে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ করে তারা। এ সময় গণসংগতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি অভিযোগ করে বলেন, তাদের মিছিলে পুলিশ ‘হামলা’ করেছে, এতে তাদের ১০ থেকে ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার হারুন অর রশীদ জানান, সচিবালয় ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে পুলিশের দায়িত্ব ছিল, মিছিলে হামলা বা বাধা দেওয়া হয়নি।
জিরো পয়েন্টের ঐ সমাবেশে জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, “আজকে সয়াবিন তেলের দাম বাজার কর্তৃপক্ষ নিজেরাই বাড়িয়ে চলেছে, কিন্তু সরকারের কোনো নির্দেশনা ছাড়ায় সেটা কার্যকর হয়ে যাচ্ছে। গ্যাস ও পানির দাম বাড়াতে তারা পাঁয়তারা করছে, শুনানির নামে নাটক করে গ্যাস ও পানির দাম বাড়াবে। এরপর তারা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে আসবে। সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস। তাদের আয় বাড়েনি, অথচ মন্ত্রীরা মানুষের জীবন নিয়ে রসিকতা করছেন।”
তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই বাধা টিকবে না। আমরা আরও শক্তি নিয়ে আসব। জনগণ আরও শক্তি নিয়ে আপনাদের ঘেরাও করবে। পুলিশের এই বাধা টপকে আপনাদেরকে ক্ষমতা থেকে নামাবে।”
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সমাবেশ ও মিছিলে ‘পুলিশ ও সরকারের লোকেরা হামলা করছে’ অভিযোগ করে সাকি বলেন, “এই সমস্ত হামলা বন্ধের দাবি জানাই। না হলে জনগণকে সাথে নিয়ে এই হামলা ও গুণ্ডাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”
দেশবাসীর প্রতি সরকারের বিরুদ্ধে ‘ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, “এই ভোট ছাড়া সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নেই, তাই জনগণের দুর্দশা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা ভাবছে ভয় দেখিয়ে ত্রাস দিয়ে সারাদেশ তারা দখল করে রাখবে। আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলি, এই ফ্যাসিবাদী কর্তৃত্বাবাদী ভোটবিহীন সরকারকে ক্ষমতা থেনে নামাই।”
অবিলম্বে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানিয়ে সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যদি না পারেন তাহলে লাগাতার আন্দোলন চলবে। অপরাপর সংগঠনগুলো নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা অচিরেই হরতালের ডাক দেব।”
এছাড়া গ্যাস ও পানির দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহারের পাশাপাশি বাজারে জিনিসপত্রের দামের সুনির্দিষ্ট তালিকা ঘোষণা করে তা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন গনসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ সাকি।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে আগামী ১৫ মার্চ রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করার ঘোষণা দেন তিনি।