রাজনীতি

ছাত্রদল করার অপরাধে ১৬ বছর বাড়ি ছাড়া শ্রাবণ!

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ। ফাইল ছবি।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ। ফাইল ছবি।

ছাত্রদলের সভাপতি হয়েছেন কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ। কিন্তু আওয়ামী পরিবারের সন্তান হওয়ায় তার সাথে পরিবারের সম্পর্ক নেই দীর্ঘ ১৬ বছর। ছাত্রদল করার অপরাধে বাবা সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন তার সাথে। এখন পরিবার থেকে দূরে আছেন তিনি। শ্রাবণ দীর্ঘদিন বাড়িতে যান না। এমনকি পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানেও অংশ নেন না তিনি।

আওয়ামী পরিবারের সন্তান ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে। এ বিষয়ে দেশ টিভি অনলাইনকে শ্রাবণ জানান, তিনি কলেজ জীবন থেকেই সচেতনভাবে ছাত্রদলের রাজনীতি করেন। পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ করলেও তিনি কখনোই ছাত্রলীগ করেননি। এজন্য তাকে পরিবার ছাড়তে হয়েছে। তাতেও দু:খ নেই তার। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সচেতন ছাত্র হিসেবে ছাত্রদলের আদর্শকে আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি ও ভালোবাসি। সেই সাথে প্রতিটি মানুষের স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার থাকা উচিৎ।

শ্রাবণের বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলায়। শ্রাবণের বাবা কাজী রফিকুল ইসলাম স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলামের বড় ছেলে কাজী মুস্তাফিজুর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। মেজো ছেলে কাজী মুজাহিদুল ইসলাম পান্না উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক। সেজো ছেলে কাজী আজাহারুল ইসলাম মানিক উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান আহ্বায়ক। অর্থাৎ তারা পুরোটাই আওয়ামী পরিবার।

কিন্তু ছোট ছেলে কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ পারিবারিক ঐতিহ্যের বাইরে গিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। আজ শ্রাবণ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

শ্রাবণের বড় ভাই কাজী মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত জানান, তিনি শুনেছেন তার ভাই ছাত্রদলের সভাপতি হয়েছেন। তবে শ্রাবণের সঙ্গে তাদের পরিবারের কারও কোনো সম্পর্ক নেই। ১৬ বছর শ্রাবণ বাড়িতে আসেন না এবং যোগাযোগও নেই।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার রুহুল আমিন বলেন, রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও শ্রাবণ ছাত্রকাল থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এতে দোষের কিছু নেই। শ্রাবণ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে, এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের দলে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আছে বলে মনে হয় না।

রোববার (১৭ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে শ্রাবণের সভাপতি হওয়ার বিষয়টি।

২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ। সেই সময় আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী হওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ওই সম্মেলনে ভোটে হেরে তিনি সিনিয়র সহসভাপতি মনোনীত হন।

কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ ২০০৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি। তখন থেকেই বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায় তার।পরিবারের সবাই অনেক চেষ্টা করেও ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে তাকে ফেরাতে পারেনি।

এ বিষয়ে এর আগে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ জানিয়েছেন, কেশবপুর কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।

দেশটিভি/এমএস
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

রওশন এরশাদের সঙ্গে রাঙ্গা

বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে বিরোধী দলের নেতারা যা বলছেন

এবার আরেক উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দিলেন জিএম কাদের

জোর-জবরদস্তির নির্বাচন হবে, এমন মেসেজ পাচ্ছি: জিএম কাদের

আমরণ অনশনের ঘোষণা ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের

আলোচিত মহিউদ্দিন মহারাজের মনোনয়ন প্রত্যাহার

প্রধানমন্ত্রী সকল যড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বীরদর্পে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে: মির্জা আজম

যা যা চাওয়া হয়েছে ভারত সব দিয়েছে: সেতুমন্ত্রী

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ