বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কুমিল্লার ভোট তা সঠিক প্রমাণ করেছে।
তিনি বলেন, গতকালকের নির্বাচন তো আপনারা নিজেরাই দেখেছেন, দ্বিতীয়বার আমি বলতে চাই না। এটা আমরা বহু আগে থেকেই জানি যে হবে। যে কারণে বলে দিয়েছি, আমরা কোনো নির্বাচনেই যাচ্ছি না। খুব পরিষ্কার করে বলেছি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার (১৫ জুন) কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত জয় পান। দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিদায়ী মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও বিএনপির আরেক নেতা কুসিক নির্বাচনে অংশ নেন। পরে তাদের দুইজনকেই বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। মনিরুল হক সাক্কু ৩৪৩ ভোটের ব্যবধানে আরফানুল হক রিফাতের কাছে হেরে যান।
ফখরুল বলেন, “এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া মানেই হচ্ছে যে, সেটা তাদেরকে আরো বৈধতা খুব পরিষ্কার করে দিলেন। এটা এখন প্রমাণিত সত্য।”
‘১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস’ পালনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) দু্টি অংশের যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন চারটি সংবাদপত্র রেখে বাকি সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারও দেশে প্রকারান্তরে বাকশাল কায়েম করেছে বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে বাকশাল করে, তাদের কাছ থেকে গণতন্ত্র পেতে পারেন না, এটা বাস্তবতা। আওয়ামী লীগের চরিত্রের মধ্যে মানুষের ভিন্নমত সহ্য করবার কোনো কিছু নেই। গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এই দুইটাকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন করা যায় না। সেজন্য গণতন্ত্রকে না পেলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আমরা কীভাবে পেতে পারি? সেজন্য আমরা গত কয়েকবছর ধরে বলছি যে, আমাদের মূল্য লক্ষ্য হচ্ছে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা।
সেই লড়াইয়ে দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার তাগিদ দিয়ে ফখরুল বলেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ, আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাসিত, আমাদের লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা। এত কিছুর পরেও আমরা কিন্তু থেমে নেই। আমরা কাজ করছি এবং চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার এবং দেশকে মুক্ত করার ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কোনো ঘাটতি নেই। নিঃসন্দেহে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাব এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবই।
বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হরণ করেছে, সংবাপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেছে, মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করেছে। আর বিএনপি সেই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে দিয়েছে, বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিয়েছে।
আগামীতে ক্ষমতায় গেলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইন বাতিল করার প্রতিশ্রুতিও দেন বিএনপি মহাসচিব।
বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে ও ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএফইউজের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, কায়কোবাদ মিলন, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বাকের হোসাইন, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।