ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা করলো নেদারল্যান্ডস। গেলো বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের প্রতিশোধ নিলো ডাচরা। স্প্যানিশ টিকিটাকা পাসকে বিধ্বস্ত করে জয় হলো ডাচ লং পাস পাওয়ার ফুটবলের। রবিন ভ্যান পার্সি ও আরিয়েন রোবেনের দুর্দান্ত গতি আর লুই ভ্যান গালের অনবদ্য ট্যাকটিকসের সামনে রীতিমতো অসহায় আত্মসমর্পন করলো গেল আসরের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ১৯৫০ সালের পর এটিই স্পেনের সবচেয়ে বড় পরাজয়।
২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনাল যেখানে শেষ হয়েছিলো, ঠিক যেনো সেখান থেকেই শুরু হলো স্পেন ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাচ। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ‘বি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি গেলো আসরের দুই ফাইনালিস্ট। এ ম্যাচের মধ্য দিয়ে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক হয় ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া ফরোয়ার্ড দিয়েগো কস্তার।
শুরুটা হয়েছিলো স্পেনের আধিপত্য দিয়ে। ২৬ মিনিটে দিয়েগো কস্তাকে ট্যাকল করেন ডাচ ডিফেন্ডার স্টেফান ডে ভ্রি। স্পটকিক থেকে স্পেনকে লিড এনে দেন সাবি আলোনসো।
স্পেনের টিকিটাকার জবাবে নেদারল্যান্ডস বেছে নেয় লং পাস। আর সাফল্য মিললো তাতেই। মাঝমাঠ থেকে ড্যালে ব্লাইন্ডের লং শটে রবিন ভ্যান পার্সি সুপারম্যান স্টাইলে মাথা ছুয়ে যে গোলটি করলেন তা দেখে চোখ ছানাবড়া হওয়ার জোগাড় দর্শকদের।
ভ্যান পার্সির গোলে উজ্জীবিত ডাচ শিবির। বিরতি থেকে ফিরে আবারো ঝটিকা আক্রমণে নেদারল্যান্ডস। এবার ড্যালে ব্লাইন্ডের লং পাস থেকে বাজিমাত করলেন আরিয়েন রোবেন।
আগের গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আবারো হোচট খায় স্পেন। ওয়েস্লি স্নাইডারের সেটপিস থেকে স্কোরশিটে নাম লেখান স্টেফান ডে ভ্রি।
ডাচ টর্নেডোতে টালমাটাল স্প্যানিশ ব্রিগেড। ইকার ক্যাসিয়াসের ভুলে আবারো বল স্পেনের জালে। ভ্যান পার্সি নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে নিলেন ৪-১ গোলে ।
নেদারল্যান্ডসের ঝড়ো গতি, আর ট্যাকটিকসের সামনে অসহায় স্পেনের ডিফেন্স। নিজের দ্বিতীয় গোল তুলে নেন আরিয়েন রোবেন।
১৯৫০ সালের পর এটিই স্পেনের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়। সেবার এই ব্রাজিলের মাটিতেই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কাছে ৬-১ গোলে হেরে ছিলো স্পেন।