হেক্সা জয়ের মিশনে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল ব্রাজিল। দুই ডিফেন্ডারের গোলে, কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেলো সেলেকাওরা।
এ ম্যাচে ডিফেন্সের দৃঢ়তা আর গোলের জন্য ক্ষুধার্ত মানসিকতা ব্রাজিলের সমর্থকদের স্বস্তি দিয়েছে তবে দুঃসংবাদ হচ্ছে, দুটি হলুদ কার্ডের কারণে, সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না ব্রাজিল অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা।
এদিকে, চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন নেইমারও। প্রথম সেমিফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষে খেলবে জার্মানি। ২০০২ সালে পঞ্চম শিরোপা জয়ের পর, ২০০৬ ও ২০১০-এ কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় ব্রাজিল। তাই ঘরের মাঠে এবার সেই বৃত্ত থেকে বের হওয়াটাই প্রথম লক্ষ্য ছিল সেলেসাওদের।
সেমিফাইনাল ওঠার লড়াইয়ে প্রথম বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে আসা কলম্বিয়ার বিপক্ষে তাই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল স্কলারির শীষ্যরা।
ম্যাচের ৭ মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। প্রথম কর্নার থেকেই গোল আদায় করে নেন থিয়াগো সিলভা। ১১ মিনিটে সমতা আনার সুযোগ তৈরি করেও বঞ্চিত হয় হোসে পেকারম্যানের শীষ্যরা।
ম্যাচের ২০ মিনিট ব্যবধান বাড়াতে পারতো ব্রাজিল। তবে কলম্বিয়ান গোলরক্ষক ওসপিনার দৃঢ়তায় সে যাত্রায় রক্ষা পায় লা ক্যাফেতেরোসরা।
এরপর নেইমাররা আরও কিছু অ্যাটাক করেও, জালের দেখা না পেলে ১-০ তে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতি থেকে ফিরে একটু যেনো ছন্দ হারিয়ে ফেলে ব্রাজিল। উল্টো ৬৪ মিনিটে থিয়াগো সিলভা হলুদ কার্ড দেখলে আগের আরেকটি কার্ড মিলিয়ে পরে যান নিষেধাজ্ঞার খড়গে। ফলে সেমিফাইনাল মিস করবেন ব্রাজিলের এ অধিনায়ক।
এর দুই মিনিট পরেই কলম্বিয়ার একটি গোল বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের কারণে। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রিকিক থেকে ব্যবধান দিগুন করেন ডেভিড লুইজ।
কলম্বিয়া ও চার ম্যাচে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচ গোল করা হামেস রড্রিগেজ, সান্তনার গোল পায় ৮০ মিনিটে। ডিবক্সের ভেতর কার্লোস বাক্কাকে ব্রাজিলের গোলরক্ষক জুলিও সিজার অবৈধভাবে বাধা দিলে পেনাল্টি পায় কলম্বিয়া। নিজের ষষ্ঠ গোল করেন রড্রিগেজ।
এরপর আরো কোনো গোল না হলেও নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট আগে ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় নেইমারকে।
শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় ব্রাজিল। ৮ জুলাই প্রথম সেমিফাইনালে সেলেকাওদের প্রতিপক্ষ জার্মানি।