সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে রাত ১০টায় বেলজিয়ামের মুখোমুখি হচ্ছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। চারবারের বর্ষসেরা ফুটবলার মেসির পারফর্মেন্সে ভর করেই সেমির টিকেট কাটতে চায় আর্জেন্টিনা।
রক্ষণ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার ফর্মে ফেরা আশার আলো দেখাচ্ছে সাদা আকাশিদের। অন্যদিকে, শেষ চারে উঠে ২৮ বছরের আক্ষেপ ঘোঁচাতে চায় বেলজিয়াম।
১৯৯০ সালে বিশ্বকাপে সবশেষ সেমিফাইনাল খেলেছিলো আর্জেন্টিনা। এরপর আর কখনোই কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পার হতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। আর সবশেষ ২ আসরে জার্মানির কাছে হেরে এই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে সাদা আকাশিদের।
এবার আর্জেন্টিনার সামনে সুযোগ ২৪ বছর পর বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরের শেষ চারে ওঠার। এবার তাদের সামনে জার্মানি না থাকলেও রয়েছে আরেক ইউরোপিয়ান দল বেলজিয়াম। এই দলটিও ১৯৮৬ সালের পর আর কখনোই সেমিফাইনালে ওঠেনি। তাই রেড ডেভিলরাও নিশ্চয়ই চাইবে তাদের ২৮ বছরের আক্ষেপ ঘোঁচাতে।
ব্রাজিল বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচেই জয়ের জন্য লিওনেল মেসির পারফর্মেন্সের উপর নির্ভর করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। এ ম্যাচেও মেসির ম্যাজিকের অপেক্ষায় থাকবে সাদা আকাশিরা। স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েন খুব একটা ভালো করতে না পারলেও অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার ফর্মে ফেরা স্বস্তি জোগাচ্ছে কোচ আলেহান্দ্রো সাবেয়াকে। সেই সঙ্গে রাইট উইংয়ে বেশ পরিশ্রম করছেন ইজেকুয়েল লাভেজ্জিও।
সাসপেনশনের কারণে ডিফেন্ডার মার্কোস রোহোকে পাওয়া যাবে না। রক্ষণ নিয়ে সাবেয়ার দুশ্চিন্তা বোধহয় একটু বাড়লো। কারণ এখনো পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি গোলমুখে শট নেয়া দলটি কিন্তু এই বেলজিয়াম। রোহো'র জায়গা নিতে পারেন হোসে বাসান্তা।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার মতো ওয়ান ম্যান শো নয় বেলজিয়াম। এ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ৬টি গোল করেছেন দলের ৬ জন আলাদা খেলোয়াড়। রেড ডেভিলদের জন্য সুখবর ইনজুরি থেকে খেলার জন্য ফিট হয়ে উঠেছেন দলের সহ-অধিনায়ক থমাস ভারমালেন। সেক্ষেত্রে ইয়ান ভার্টঙ্গেন অথবা ড্যানিয়েল ভ্যান বুইটেন, এ দুজনের মধ্যে যে কাউকে সাইড বেঞ্চে বসাতে হতে পারে কোচ মার্ক উইলমটসকে।
লিওনেল মেসি ও অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে আটকানোর গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে বেলজিয়ামের অধিনায়ক ভিনসেন্ট কোম্পানি, অ্যাল্ডারওয়াইল্ড ও অ্যাক্সেল উইটসেলদের।
সার্জিও রোমেরো আর লিওনেল মেসিরা কি পারবেন আর্জেন্টিনাকে কোয়ার্টার ফাইনালের জুজু থেকে মুক্তি দিতে। নাকি আরো একবার ইউরোপিয়ান দলের কাছে হেরে শেষ আট থেকেই বিদায় নিতে হবে। এখন সেটা দেখার অপেক্ষাতেই পুরো বিশ্ব।