জার্মানির ৬ মিনিটের ঝড়ে উড়ে গেল ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন। নিভে গেল হেক্সা প্রদীপ। মুলার-ক্লোসাদের গোল বন্যায় সেমিফাইনাল থেকেই ভেসে গেল সেলেসাওরা। ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হলো নেইমার-সিলভাবিহীন ব্রাজিল।
সেই সঙ্গে ১৬ গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার খাতায় নাম লেখালেন মিরোস্লাভ ক্লোসা।
এ অশ্রুজল কোনো বাধাই আর মানবে না। কি দিয়ে স্বান্তনা খুজবে ব্রাজিল? ৬৪ বছর পর, ঘরের মাঠে শিরোপা পুনরুদ্ধারের যে সুযোগ এসেছিল সেলেসাওদের সামনে, তা এক নিমিশেই কোথায় যেন হারিয়ে গেল। সেই সঙ্গে পেল নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হারের লজ্জা। এর আগে ১৯২০ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে ৬-০ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল।
নেইমার-সিলভা বিহীন ব্রাজিলের শুরুটা আশা জাগানিয়া হলেও, কিছুক্ষনের মধ্যেই মাঠের নায়ক বনে যান মুলার। ১১ মিনিটে তার গোল থেকেই লিড পায় জার্মানি। এবারের আসরে এটি তার ৫ম গোল। আগের আসরেও ৫ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন তিনি।
২৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ কররেন ক্লোসা। এটি বিশ্বকাপে ক্লোসার এবারের আসরে দ্বিতীয় ও বিশ্বকাপে ১৬তম গোল। রোনালদোর ১৫ গোলের রেকর্ড ভেঙ্গে বিশ্বকাপে তিনিই এখন সর্বোচ্চ গোলদাতা।
এরপরই ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে নিয়ে ছেলেখেলায় মেতে ওঠে জার্মানরা। ৬ মিনিটের মধ্যে আরো ৩ গোলে অবিশ্বাস্য স্কোর লাইন ৫-০। টনি ক্রুসের দুটি ও সামি খেদিরার ১টি গোলে স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় স্বাগতিকদের।
বিরতি থেকে ফিরে সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিলও। তবে গোল করার সক্ষমতার অভাব আর জার্মান গোলরক্ষক নয়্যারের দৃঢ়তায় ব্যর্থ হয়ে যায় সেলেসাওদের কয়েকটি গোল শোধের সম্ভাবনা।
উল্টো বদলি হিসেবে নামা আন্দ্রে শুরলের কাছে শেষ ধাক্কা খেতে হয় ব্রাজিলকে। ৬৯ ও ৭৯ মিনিটে শুরলের দেয়া দুটি গোলে ব্যবধান হয়ে যায় ৭-০।
ম্যাচের শেষ মিনিটে স্বান্তনার গোল পায় অস্কার।
এখানেই আপাতত শেষ ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন। চার বছর পর রাশিয়ায় ২০১৮ সালে আবারো হয়তো হেক্সা জয়ের মশাল জ্বালাবে সেলেসাওরা।