ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ৩ বারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও ২ বারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে লড়াইটা হবে মূলত জার্মানির দুর্ধর্ষ আক্রমণকে আর্জেন্টিনা কি কৌশলে মোকাবেলা করে তার ওপর।
প্রথম সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আরো একবার প্রতিপক্ষকে সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছে ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইটরা। আর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা।
পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা করেছিলো জার্মানি। তবে এরপর ঘানার সঙ্গে ড্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে নূন্যতম ব্যবধানে জয় পায় ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইটরা। যা নিয়ে অনেক সমালোচনার মুখেই পড়তে হয়েছে জোয়াকিম লো ও তার দলকে। অনেককেই বলতে শোনা গেছে জার্মানির আক্রমণভাগের ধার ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
তবে, সমালোচকদের মুখ শুধু বন্ধই করেনি জার্মানি। সেই পুরো বিশ্বকেই হতবাক করে দিয়েছে ইউরোপিয়ান এই পাওয়ার হাউজ। প্রথম সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করেছে জার্মানি।
টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সুশৃঙ্খল আক্রমণভাগ রয়েছে জোয়াকিম লো'র হাতেই। যে কোন দলের জন্যই ত্রাস সৃষ্টি করতে পারেন- থমাস মুলার, আন্দ্রে শার্লে, টনি ক্রুস, মেসুত ওজিল, বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার, লুকাস পোডোলস্কি আর মিরোস্লাভ ক্লোসারা ।
ব্রাজিল বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৭টি গোল করে যারা তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। অনেকেই বলছেন জার্মানি নাকি এখনো তাদের সেরা খেলাটা তুলে রেখেছে ফাইনালের জন্য।
এদিকে, বরাবরই দুর্বল ডিফেন্সের জন্য সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেও ফুটবল বোদ্ধারা শঙ্কিত ছিলেন আলবিসেলেস্তেদের রক্ষণভাগ নিয়ে। একারণেই হয়তো সতর্ক ফুটবল খেলেছেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ভালো খেলেছেন তারা।
আর নেদারল্যান্ডসের দুর্ধর্ষ অ্যাটাকারদের ১২০ মিনিট আটকে রাখার কঠিন কাজটি যত্নের সঙ্গে করেছেন হ্যাভিয়ের মাশ্চেরানো, পাবলো জাবালেতা ও মার্কোস রোহোরা। আর টাইব্রেকারে জাদু দেখিয়েছেন গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো।
ফাইনালে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় নামতে হবে আর্জেন্টাইন রক্ষণের প্রহরীদের। জার্মানির ক্ষুরধার আক্রমনভাগকে রুখে দিতে পারলেই স্বস্তিতে আক্রমনে যেতে পারবেন মেসি, আগুয়েরোরা। আর জার্মানির পাওয়ার ফুটবলের লাগাম টেনে ধরতে ব্যর্থ হলে তার চরম মূল্য দিতে হতে পারে আর্জেন্টিনাকে।