বার্সেলোনাপর্ব শেষে আবারও গুরু-শিষ্যের সম্পর্কে জেরার্ডো মার্টিনো ও লিওনেল মেসি। দুজনের প্রধান দুটি মিল—দুজনের জন্ম রোজারিওতে। উত্থানপর্বেও আছে নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ ক্লাব। এবার দুজনের মিশন জাতীয় দলে আর কথা হলো জমবে তো মেসি-মার্টিনো জুটি।
অনেকের মাঝে ছির কিছু গুঞ্জন, মার্টিনোকে বার্সার কোচ করার পেছনে মেসির ভূমিকা নিয়ে। সে যাই হোক কাতালান ক্লাবে দুজনের জুটি তেমন একটা জমেনি—এটা অন্তত বলা যায়। গত মৌসুমে স্প্যানিশ সুপার কাপ বাদে বার্সাকে বড় কোনো শিরোপা দিতে পারেননি মার্টিনো। ফলে এক মৌসুম শেষেই ঠিকানা বদল করতে হয় মার্টিনোকে। শুধু তাই নয়, মেসির কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনার ক্ষেত্রেও খুব একটা সফল নন বলে সমালোচনা শুনতে হয়েছে তাকে।
বিগত ২০০৪-০৫ থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম বলা হয় ক্লাব ফুটবলে মেসির উত্থানপর্ব। ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের যুগে বার্সা ফরোয়ার্ড করেছিলেন ১১০ ম্যাচে ৪২ গোল। তবে বার্সা তারকার ‘স্বর্ণযুগ’ মূলত ২০০৮-২০০৯ থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম। ওই সময় কাতালান জায়ান্টের দায়িত্ব ছিলেন পেপ গার্দিওলা। গার্দিওলার যুগে ‘মেসি মানেই গোল, গোল মানেই মেসি’! চার মৌসুমে ২১৯ ম্যাচে করেন ২১১ গোল। প্রয়াত কোচ টিটো ভিলানোভার অধীনে ২০১২-১৩ মৌসুমে ৫০ ম্যাচে ৬০ গোল আর মার্টিনোর অধীনে ২০১৩-১৪ মৌসুমে ৪৬ ম্যাচে ৪১ গোল। সংখ্যার বিচারে হয়তো কম নয়, তবে মেসিকে ঠিক স্বরূপে পাওয়া যায়নি এ মৌসুমে।
ক্লাব ফুটবলে মেসি যতটা উজ্জ্বল, জাতীয় দলে ততটা নন—এ ‘অপবাদ’ শুনতে হয়েছে বহুদিন। হোসে প্যাকারম্যান, ডিয়েগো ম্যারাডোনা, সার্জিও বাতিস্তার মতো কোচেরাও মেসিকে ঠিকমতো ‘ক্লিক’ করাতে পারেননি। তাই নীল-সাদা জার্সিতে অনেকদিন অচেনাই রয়ে গেলেন চারবারের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়। এর মধ্যে অতীত হয়ে গিয়েছিল দু-দুটি বিশ্বকাপ।
২০১১ সালের আগস্টে আলেসান্দ্রো সাবেলা দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের প্রাণভোমরার কাছ থেকে সেরাটা বের করতে বেশ কিছু উপায় বের করলেন। আস্থা রেখে অধিনায়কের দায়িত্বটাই তুলে দিলেন তাঁর কাঁধে। গুঞ্জন আছে, এর আগে আর্জেন্টিনার কোচ নাকি সাবেক বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলার সঙ্গে কথা বলে জেনে নিয়েছিলেন, কীভাবে মেসির কাছ থেকে সেরাটা আদায় করে নিতে হবে। কীভাবে দলের বাকিদের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া বাড়াতে হবে। গার্দিওলার উপদেশ যে কাজে লেগেছে, সেটার প্রমাণ তো মিলল হাতেনাতেই। ম্যারাডোনাসহ আগের কোচদের অধীনে যেখানে ৬১ ম্যাচে ১৭ গোল ছিল মেসির, সেখানে সাবেলার অধীনে ৩১ ম্যাচে ২৫ গোল! কে না জানে—মেসি জ্বলে উঠলে উজ্জ্বল হয় আর্জেন্টিনার স্বপ্নও!
এবার বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে করলেন ৪ গোল। সতীর্থকে দিয়েও গোল করালেন। টানা চার ম্যাচ ম্যান অব দ্য ম্যাচ হলেন। দলকে ফাইনালে তুললেন। হাতে উঠল গোল্ডেন বল। যদিও বহু আরাধ্য বিশ্বকাপটা হাতে তোলা হলো না! সমর্থকদের দীর্ঘশ্বাস ভারী করার মতোই বিষয় বটে। তবে সাবেলাই একমাত্র মেসিকে ঠিকঠাক ‘চিনেছেন’, সেটি বলা কি ভুল হবে? সাবেলা অনেকটাই পেরেছেন। বার্সা-অধ্যায়ের ব্যর্থতা ভুলে সাবেলার উত্তরসূরি মার্টিনো পারবেন আর্জেন্টিনা অধিনায়কের কাছ থেকে সেরাটা বের করতে? সূত্র : প্রথম আলো।