দক্ষিণ আফ্রিকার একটি আদালতের বিচারক দেশটির তারকা ক্রীড়াবিদ অস্কার পিস্টোরিয়াসকে নরহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার একই আদালতের বিচারক তাকে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থেকে খালাস দেয়।
বিচারক বলেন, পিস্টোরিয়াসের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হলেও রাষ্ট্রপক্ষ তা প্রমাণ করতে পারেনি।
বিচারক থোকাজিলে মাসিপা বলেন, পিস্টোরিয়াসের গাফিলতিতে টয়লেটের দরজায় গুলি করার ঘটনা ঘটে। এই ক্রীড়াবিদ ‘টয়লেটে কোনো অনুপ্রবেশকারী লুকিয়ে আছেন বলে মনে করেছিলেন।’
‘ব্লেড রানার’ নামে পরিচিত ২৭ বছর বয়সী পিস্টোরিয়াসের দাবি, বাড়িতে কেউ ঢুকেছে ভেবে আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালিয়েছিলেন তিনি। তার গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান বাথরুমে থাকা পিস্টোরিয়াসের বান্ধবী মডেল তারকা স্টিনক্যাম্প।
তার বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে গাফিলতির অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত জানিয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, এই দৌড়বিদ সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিস্টোরিয়াসকে ৭ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হতে পারে।
২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মডেল বান্ধবী স্টিভা স্টিনক্যাম্পকে গুলি করে হত্যা করেন পিস্টোরিয়াস। ওই দিন বাসায় ফিরে টয়লেটে কোনো অনুপ্রবেশকারী রয়েছে এমন সন্দেহের ভিত্তিতে নিজের আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে টয়লেটের দরজায় বেশ কয়েক দফা গুলি করেন পিস্টোরিয়াস। পরে দরজা ভেঙে টয়লেটের ভেতরে তার বান্ধবী স্টিনক্যাম্পকে দেখতে পান।
খুনের অভিযোগ ছাড়াও বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে অস্কারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ছয় মাস ধরে শুনানি, ৪০ জন সাক্ষীর বক্তব্য শোনার পর অবশেষে রায় ঘোষণা করা হল।
পিস্টোরিয়াস বারবার ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত নয় বলে দাবি করেছেন। যদিও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তা মানতে নারাজ ছিলেন। আদালত তাকে ইচ্ছাকৃত হত্যার দায় থেকে মুক্তি দিলেও হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে।
পিস্টোরিয়াসের ছোড়া গুলি স্টিনক্যাম্পের মাথা, বাহু আর নিতম্বে লাগে। পরে বাথরুম থেকে পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।
বিচারক বলেন, বাথরুমের ভেতরে কে আছে তা দরজার এপাশ থেকে জানা পিস্টোরিয়াসের পক্ষে সম্ভব ছিল না। সুতরাং তিনি পরিকল্পিতভাবে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন- এমনটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। তবে তিনি উল্লেখ করেন, পিস্টোরিয়াসের অবহেলার জন্যই মৃত্যু হয়েছে স্টিনক্যাম্পের।
বিচারক বলেন, ২০১৩ সালের ভ্যালেন্টাইন্স দিবসে এই ঘটনায় বাথরুমে শব্দ পেয়ে পিস্টোরিয়াস সাহায্যের জন্য পুলিশ বা নিরাপত্তা কর্মীদের খবর দিতে পারতেন অথবা প্রতিবেশীদের সহায়তার জন্য চিৎকার করতে পারতেন। তিনি তা না করে দরজার ওপাশে কেউ আছে জেনেই গুলি চালিয়েছেন।
রায় পড়ার সময় মাধেমধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে পিস্টোরিয়াসকে।
রিভা স্টিনক্যাম্পকে পরিবারের সদস্যরাও আদালতে রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিল।
প্রথম অঙ্গহীন অ্যাথলেট হিসেবে লন্ডনে মূল অলিম্পিকে অংশ নেন পিস্টোরিয়াস।
বিশ্বের ‘পা বিহীন দ্রুততম মানব’ হিসেবে পরিচিত পিস্টোরিয়াস এর আগে ২০০৪ সালে এথেন্স প্যারালিম্পিকে ২০০ মিটারে সোনা ও ১০০ মিটারে ব্রোঞ্জ পান।
চার বছর পর বেইজিং প্যারালিম্পিকে ১০০, ২০০ ও ৪০০ মিটারে এবং ২০১২ লন্ডন প্যারালিম্পিকেও ২০০ ও ৪০০ মিটার রিলেতে সোনা জেতেন তিনি।
তবে ২৬ বয়সী পিস্টোরিয়াস সবচেয়ে চমক দেখান লন্ডনে মূল অলিম্পিকে। ৪০০ মিটার দৌড়ে পদক জিততে না পারলেও ৫১ প্রতিযোগীর মধ্যে ১৬তম হন তিনি।