মিরপুর টেস্টে জয়ের নায়ক তাইজুল ইসলাম। ৩৯ রানে ৮ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে ১১৪ রানে বেঁধে ফেলে জয়ের জন্য সহজ ভিত্তি তৈরি করেন দেন তাইজুল। তবে একের পর উইকেট হারিয়ে ১০১ রানের জয়ের সহজ টার্গেটকে যখন আগের ব্যাটসম্যানরা কঠিন করে ফেলেন তখন ধৈর্যের প্রতীক হয়ে অধিনায়ককে সঙ্গে নিয়ে দলকে পৌঁছে দেন জয়ের বন্দরে।
দলের উইনিং শটটিও এসেছে তাইজুলের ব্যাট থেকেই। দেশের প্রথম বোলার হিসেবে এক ইনিংসে ৮ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ক্রিকেটের ৩ ফরমেটেই এখন দেশের সেরা বোলিং ফিগার এখন তাইজুলের।
খুব বেশি দিন হয়নি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রেখেছেন গেল মাসেই। এখন পর্যন্ত রঙিন পোষাকটিও চাপাতে পারেননি গায়ে। এ নিয়ে খেলেছেন মাত্র ৩টি টেস্ট। তবে এ ৩ টেস্টেই জানিয়ে দিয়েছেন অনেকদিন রাজত্ব করতে চান তিনি। ২২ বছরের এ তরুণের হাত ধরেই মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট জয় পেলো বাংলাদেশ।
সেপ্টেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় তাইজুলের। প্রথম দুই টেস্টে ঝুলিতে পুরেন ৮ উইকেট। আর এবার নিজের তৃতীয় টেস্টেই দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে পেরিয়ে গেলেন আগের দুই টেস্টের যোগফলকে।
প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেও সমৃদ্ধ ভাণ্ডার তাইজুলের। ৩ টেস্টে ১৭ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি এ পর্যন্ত ২২টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলে ১০৮টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে ৫ উইকেট ১০ বার ১০ উইকেট নিয়েছেন ৪ বার।
আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই ম্যাচ দিয়ে ইতিহাসের খাতায় নাম লেখালেন তাইজুল। তার ৩৯ রানে ৮ উইকেট, টেস্ট ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষে সেরা বোলিং পরিসংখ্যান। বাংলাদেশের মাটিতে হওয়া টেস্ট ম্যাচেও কোনো বোলারের সেরা পারফরমেন্স এটি। আর টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা বোলিং পরিসংখ্যানে এটি ৩০তম।
বছর জুড়ে একের পর এক ব্যর্থতার পর এ টেস্টে অনেক কিছু পেলো বাংলাদেশ। দলের জয়ের পাশাপাশি উজ্জল হয়ে রইলেন তাইজুলও।