চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ৮৭ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের দেয়া ২৮২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৪২.১ ওভারে ১৯৪ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে।
স্বাগতিকদের বাংলাদেশের ২৮১ রানের বড় সংগ্রহের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দুই ওপেনার সিকান্দার রাজা ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ভালোভাবেই এগুচ্ছিলেন। তবে দলীয় ৪৭ রানের মাথায় অলরাউন্ডার সাকিব আল-হাসান এ দুই জনকে ফিরিয়ে শুরুতেই বড় ধাক্কা দেন সফরকরীদের।
এরপর ব্রেন্ডন টেলরকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। তবে পরপর দুই উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে দিয়েছেন অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
দলীয় ৯২ রানের মাথায় হ্যামিল্টন মাসাকাদকাজে নিজের প্রথম শিকার বানান মাহমুদুল্লাহ। এরপর ১২৪ রানের মাথায় জিম্বাবুয়ের শিবিরে আবারো আঘাত হানেন রিয়াদ। রেগিস চাকাবভাকে ব্যক্তিগত ৯ রানে সরাসারি বোল্ড আউট করেন মাহমুদুল্লাহ।
ব্রেন্ডন টেলর প্রায় একাই টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন দলকে, তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৩০তম হাফসেঞ্চুরি। তার অর্ধশতক পূর্ণ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তাকে সাজঘরে ফেরান টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। দলীয় ১৪৬ রানের মাথায় মাশরাফির বলে মুশফিক দারুণ এক ক্যাচে তিনি আউট হন। আউট হওয়ার আগে এক ছক্কা ও চারটি বাউন্ডারিতে ৭২ বলে ৫৪ রান করে টেলর।
বাংলাদেশের পক্ষে সাকিব আল-হাসান ১০ ওভার বল করে ৪১ রানে ৪টি উইকেট দখল করেন এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১০ ওভার বল করে ৪০ রানের বিনিময়ে তুলে নিয়েছেন সমান ২টি উইকেট। এছাড়াও অধিনায়ক মাশরাফি ৬ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে তুলে নেন দুইটি উইকেট।
এর আগে সাকিব-মুশফিক-সাব্বিরের ব্যাটে ভর করে ৭ উইকেটে ২৮১ রান করে বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ শতক তুলে নেন সাকিব আল হাসান। পাশাপাশি জ্যাক ক্যালিস, স্টিভ ওয়াহ ও সনাৎ জয়াসুরিয়ার পর ৪র্থ ক্রিকেটার হিসেবে দেশের মাটিতে ১০০ উইকেট ও ২০০০ রান নেয়ার কৃতিত্ব দেখান সাকিব।
খেলার শুরুতে টসে হেরে শুরু হয় ওয়ানডের নতুন অধিনায়ক মাশরাফির মিশন। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ছন্দপতন বাংলাদেশের। মাত্র ৫ রান করে পানিয়াঙ্গারার বলে বোল্ড হন ওপেনার তামিম ইকবাল।
টেস্টে সুযোগ পান নি কিন্তু ওয়ানডেতে ইমরুল কায়েসের জায়গায় ওপেনিং করতে নেমে হতাশ করলেন এনামুলও। ৪৩ বলে ১২ রান করে, প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটা দেন বাংলাদেশের এ ওপেনারও। স্কোরবোর্ডে তখন দশম ওভারে যোগ হয়েছে মাত্র ২৬ রান।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্রিজ থেকে বিদায় নেন মাহমুদুল্লাহ। ৩১ রানে ৩টি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে মাশরাফিবাহিনী।
টেস্টে উজ্জ্বল মুমিনুলও ৭৪ বলে ৩১ রান করে আউট হলে ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। ২০তম ওভারে ৪টি মূল্যবান উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের সংগ্রহ মাত্র ৭০ রান। দলের এমন বিপর্যয়ে আবারো কান্ডারি সাকিব আল হাসান। আর সাকিবের সঙ্গী মুশফিকুর রহিম।
একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ শতক হাকান সাকিব। সাকিবকে সঙ্গ দিয়ে ক্যারিয়ারের সতেরোতম অর্ধশতক পূরণ করেন মুশফিকুর রহিম। সাকিব-মুশফিকের ১৪৮ রানের জুটিতে ঘুঁরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক লাখ রানও পূরণ করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
পরে ১০১ রান করে সাকিব প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে, ক্রিজে নামেন সাব্বির রহমান। অভিষেক ওয়ানডেতে ব্যাট করতে নেমে, জানিয়ে দিলেন দলকে অনেক কিছু দেয়ার আছে তার।
অন্যপ্রান্তে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৩ হাজার রান পূরণ করে ব্যক্তিগত ৬৫ রানে ফিরে যান মুশফিক।
মুশফিক ফিরে গেলেও ব্যাট চালিয়ে যান সাব্বির। তার ২৫ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৮১ রান করে বাংলাদেশ।