২০১৪ সালটি বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য ছিল একটি ব্যস্ত বছর। জাতীয় ও অনুর্ধ্ব-২৩ দল এ বছর মোট ১০টি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছে। আন্তর্জাতিক আসরে দুর্দান্ত খেলে দেশের ফুটবলের সুনাম ছড়িয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। কলকাতায় আইএফএ শিল্ডে রানার্স আপ ও ভুটান কিংস কাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। এছাড়া জাতীয় দলের ফুটবল কোচ নিয়ে নাটক ছিল বছর জুড়েই।
২০১৪ সালে বাংলাদেশের ফুটবলের বিজ্ঞাপন ছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। কলকাতার আইএফএ শিল্ডে দুর্দান্ত খেলে সবার নজর কাড়ে। ফাইনালে টাইব্রেকারে কলকাতার মোহনবাগানের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় তারা। কিন্তু ভুটানের কিংস কাপে দারুণ খেলে ফাইনালে ভারতের পুনে এফসিকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় শেখ জামাল ধানমন্ডি।
এরপর ঢাকায় প্রীতি ম্যাচে কোরিয়ার বুসান আই পার্কের কাছে ০-২ গোলে হারলেও আবারো অসাধারণ পারফরমন্সের জন্য ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসায় ভাসে তারা।
২০১৪ সালে জাতীয় দল প্রীতি ম্যাচ খেলেছে ৭টি। গোয়ায় ভারতের কাছে শেষ মুহুর্তে গোল খেয়ে, ২-২ গোলে ড্র করে। ভিয়েতনামের বিপক্ষে, একমাত্র ম্যাচটি ৪-২ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। নেপালের বিপক্ষেও দুই ম্যাচ সিরিজটি ১-১ এ ড্র করে বাংলাদেশ। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ড্র করলেও, শেষ ম্যাচ ১-০ ব্যবধানে জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেয় স্বাগতিকরা।
বছরের শেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে, জাপান অনুর্ধ্ব-২১ দলের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারে বাংলাদেশ জাতীয় দল।
তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলে অনুর্ধ্ব-২৩ দল। এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি হিসেবে সিলেটে, নেপাল অনুর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ এ ড্র করে তারা।
আর দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচনে, এশিয়ান গেমসের প্রথম ম্যাচে, আফগানিস্তান অনুর্ধ্ব-২৩ দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে, ২৪ বছর পর জয়ের দেখা পায় বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-২৩ দল। প্রথম জয়টি ছিলো ১৯৮৬ সালে। তবে শেষ ম্যাচটি হেরে যায় তারা।
সাফল্যের দেখায় পায় বাংলাদেশের ক্ষুদে নারী ফুটবলাররা। এএফসি বাছাইপর্বে, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে, প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে মূল পর্বের আশা জাগায় নারী দল। তবে শেষ দুটি ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের।
আর পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় নারী তৃতীয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সেমিফাইনালে, নেপালের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের।
কোচ নিয়ে নাটক হয়েছে বছর জুড়েই। বাফুফের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে, কথা কাটা-কাটির জেরে ঢাকা ছাড়তে হয় দুই ডাচ কোচ লোডউই ডি ক্রুইফ ও রেনে কোস্টারকে।
এরঠিক দুমাস পর ডিসেম্বরে, আবারো লোডউইককে নিয়ে আসার কথা জানান বাফুফে সভাপতি।