ব্রিসবেনের গ্যাবায় ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ২০ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি প্রথম দুই ম্যাচে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারা পাকিস্তানের। দ্বিতীয় ওভারেই নাসির জামশেদকে হারায় তারা।
টেন্ডাই চাটারার করা অফস্টাম্পের বাইরের বল পুল করতে গিয়ে সিকান্দার রাজার তালুবন্দি হন জামশেদ। পরের ওভারে দারুণ এক বলে অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদকে ব্রেন্ডন টেইলরের গ্লাভসবন্দি করেন চাটারা।
মাত্র ৪ রানে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারানো পাকিস্তান প্রতিরোধ গড়ে হারিস সোহেল ও মিসবাহর ব্যাটে। তারা নিজেদের এতোই গুটিয়ে রেখেছিলেন যে, ১০ ওভারে ১৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি পাকিস্তান।
তৃতীয় উইকেটে ৫৪ রানের জুটি গড়ে ফিরে যান হারিস। তাকে বিদায় করে ১৬.২ ওভার স্থায়ী জুটি ভাঙেন রাজা।
নেমেই দ্রুত রান তুলতে থাকেন উমর আকমল। মিসবাহর সঙ্গে গড়েন ৬৯ রানের ভালো একটি জুটি। ১২.২ ওভার স্থায়ী বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙার কৃতিত্ব শন উইলিয়ামসের।
এক বল পর শহিদ আফ্রিদিকে বোল্ড করে পাকিস্তানকে বিপদে ফেলেন বাঁহাতি স্পিনার উইলিয়ামস। ৩৫তম জন্মদিনে ব্যাটিংয়ে একটা লজ্জাই পেলেন আফ্রিদি। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো শূন্য রানে আউট হলেন তিনি।
রানের গতি বাড়াতে শুরু থেকেই আক্রমাত্মক ব্যাটিং করা শোয়েব মাকসুদ বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তার বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন ওয়াহাব। অধিনায়কের সঙ্গে ৪৭ রানের এক জুটি গড়ে দলের সংগ্রহ দুইশ’ পার করেন তিনি।
চাটারার তৃতীয় শিকারে পরিণত হয়ে শেষ হয় মিসবাহর ৭৩ রানের লড়াকু ইনিংসটি। তার ১২১ বলের ইনিংসটি সাজানো ৩টি চারে।
অধিনায়ক ফিরে গেলেও থামেননি ওয়াহাব। শেষ ওভারে অর্ধশতকে পৌঁছানো এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান দলকে নিয়ে যান আড়াইশ’ রানের কাছাকাছি। ৫৪ রানে অপরাজিত থাকা ওয়াহাবের ৪৬ বলের ইনিংসটি ৬টি চার ও ১টি ছক্কা সমৃদ্ধ।
পাকিস্তান সংগ্রহ করে ৭ উইকেটে ২৩৫ রান। ৩৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের সেরা বোলার চাটারা।
পরে ব্যাট করতে নেমে পঞ্চম ওভারে মোহাম্মদ ইরফানের বলে দ্বিতীয় স্লিপে হারিস সোহেলের হাতে ধরা পড়েন চামু চিবাবা। পরের ওভারে দ্বিতীয় স্লিপেই হারিসকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সিকান্দার রাজা।
২২তম ওভারে ফিরে জিম্বাবুয়ের প্রতিরোধ ভাঙেন ইরফান। হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে মিসবাহ-উল-হকের ক্যাচে পরিণত করেন এই বাঁহাতি পেসার। ব্রেন্ডন টেইলরের সঙ্গে ৫২ রানের জুটি গড়েছিলেন মাসাকাদজা।
অর্ধশতকে পৌঁছেই ফিরে গেছেন টেইলর। ওয়াহাব রিয়াজের বলে উমর আকমলের গ্লাভসবন্দি হন তিনি। রাহাত আলির বল কাট করতে গিয়ে ব্যকওয়ার্ড পয়েন্টে আহমেদ শেহজাদের ক্যাচে পরিণত হন উইলিয়ামসন।
তৃতীয় স্পেলে ফিরে আবার উইকেট নেন মোহাম্মদ ইরফান। সলোমন মায়ার ফিরে যান কামরান আকমলকে সহজ ক্যাচ দিয়ে। মিসবাহ-উল-হক ও ওয়াহাব রিয়াজের দুই মেজাজের দুই অর্ধশতকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে পাকিস্তান।