জিম্বাবুয়েকে ৫ রানে হারিয়ে জয় পেয়েছে এ বিশ্বকাপে চমক জাগালো আয়ারল্যান্ড। হোবার্টের বেলেরিভ ওভালে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ৩৩১ রান করে আয়ারল্যান্ড। জবাবে ৩ বল বাকি থাকতে ৩২৬ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।
আইরিশদের ছুড়ে দেয়া ৩৩২ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে আসেন চামু চিভাভা এবং সিকান্দার রাজা। দলীয় ৩২ রানে সিকান্দার রাজাকে ফেরান জন মুনি। স্টারলিংয়ের তালুবন্দি হওয়ার আগে রাজা ব্যক্তিগত ১২ রান করেন। দলীয় ৭৪ রানে টপঅর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ধুঁকতে থাকা জিম্বাবুয়ে কিছুটা হলেও বিপর্যয় কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করে।
তবে ইনিংসের ৩৮তম ওভারে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম শতক হাঁকিয়ে জিম্বাবুয়ের দলপতি ব্রেন্ডন টেইলর বিদায় নিলেন।
ব্যাটিং ক্রিজে টেইলর যতোক্ষণ ছিলেন ততক্ষণ আইরিশ বোলারদের শাসন করেন। ৭৯ বলে শতক হাঁকানো এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান কুসাকের বলে কেভিন ও ব্রাইনের তালুবন্দি হওয়ার আগে ৯১ বল মোকাবেলা করে ১১চি চার আর ৪টি ছক্কার সাহায্যে ১২১ রান করেন।
শেন উইলিয়ামস এবং পাঁচ হাজারি ক্লাবের টেইলর মিলে ১৪৯ রানের জুটি গড়েন।
ইনিংসের নবম ওভারে কুসাকের বলে পোর্টারফিল্ডের হাতে বল তুলে দেন জিম্বাবুয়ের ওপেনার চামু চিভাভা। আউট হওয়ার আগে চিভাভা ৩২ বল খেলে করেন ১৮ রান।
এরপর এগারোতম ওভারে মাসাকাদজাকে ফেরান কেভিন ও ব্রাইন। উইকেটের পিছনে উইলসনের তালুবন্দি হওয়ার আগে মাসাকাদজা করেন মাত্র ৫ রান। আর ১৭তম ওভারে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা সলোমন মিরেকে সাজঘরে যেতে বাধ্য করেন ডকরেল।
এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের এড জয়েস ও অ্যান্ডি বালবিরনির ব্যাটে ভর করে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৩১ রান করেছে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতকের দেখা পান জয়েস। আর প্রথম সেঞ্চুরি থেকে ৩ রান দূরে থেকে রান আউট হন বালবিরনি। এ দুই জন মিলে ১৩৮ রানের জুটিও গড়েন।
হোবার্টের বেলরিভ ওভালে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বকাপের ৩০তম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে আয়ারল্যান্ড। আইরিশদের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে আসেন উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড এবং পল স্টার্লিং।
আইরিশদের দুই ওপেনার তিনাশে পানিয়াঙ্গারার বলে প্রথম ওভার থেকে তুলে নেন ৯ রান। তবে এ পানিয়াঙ্গারার বলে তৃতীয় ওভারের শেষ বলে সাজঘরে ফেরেন স্টার্লিং। দলীয় ১৬ রানের মাথায় পয়েন্টে দাঁড়ানো উইলিয়ামসের তালুবন্দি হওয়ার আগে স্টার্লিং করেন ১১ বলে ১০ রান।
দলীয় ১৬ রানের মাথায় আইরিশ ওপেনার পল স্টার্লিংকে হারালেও বেশ ভালোভাবেই জিম্বাবুয়ের বোলারদের মোকাবেলা করেন আরেক ওপেনার পোর্টারফিল্ড এবং তিন নম্বরে নামা এড জয়েস। দু’জন মিলে স্কোর বোর্ডে জমা করেন আরও ৬৩ রান। তবে, ইনিংসের ২১তম ওভারের প্রথম বলে উইলিয়ামস ফেরান পোর্টারফিল্ডকে। ৬১ বলে ২৯ রান করে মাসাকাদজার হাতে ধরা পড়েন পোর্টারফিল্ড।
২২ বলে ২৪ রান করা কেভিন ও’ব্রাইন চাতারার বলে চাকাভার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। মাত্র ১৩ বলে তিন চার আর এক ছয়ে ২৫ রান করেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান গ্যারি উইলসন। উইলিয়ামসের করা ৪৮তম ওভারে উইলসনের পর ফিরে যান ৪ বলে ১০ রান করা জন মুনি।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তৃতীয় শতক হাঁকিয়ে দলকে ভালো অবস্থানে রেখে বিদায় নেন আইরিশ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এড জয়েস। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হওয়া জয়েস ৯৮ বলে শতক হাঁকিয়ে ১১২ রান করে আউট হন। আউট হওয়ার আগে তিনি ১০৩ বল খেলে ৯টি চার আর ৩টি ছয় হাঁকান। ব্যাটিং ক্রিজে জয়েসকে সঙ্গে নিয়ে ১৩৮ রানের জুটি গড়েন অ্যান্ডি বালবিরনি।
আর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থেকে অ্যান্ডি বালবিরনি রান আউট হওয়ার আগে করেন ৯৭ রান। ব্যাটে ঝড় তুলে পানিয়াঙ্গারার করা ৪৩তম ওভারে তিনি ২১ রান তুলে নেন। ইনিংসের শেষ ওভারে দুই রান নিতে গিয়ে রান আউটে কাটা পড়ার আগে ৭৯ বলে ৭টি চার আর ৪টি ছক্কা হাঁকান বালবিরনি।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের দলের সুখস্মৃতি তোলা রয়েছে। ওয়ানডেতে সর্বশেষ ২০১০ সালে দ্বিপাক্ষীয় সিরিজে দেখা হয়েছিল দু’দলের। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শেষবারের দেখায় স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে ২০ রানে হারিয়েছিল আইরিশরা।