অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেইড ওভালে মাহমুদুল্লাহর শতকে ভর করে ইংল্যান্ডকে ১৫ রানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে টাইগাররা। ২৭৬ রানের টার্গেট দিয়ে এক অভূতপূর্ব জয় এনেছে তারা।
বাংলাদেশের এ বিশাল জয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার, বিরোধীদলের নেতা রওশান এরশাদ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অভিনন্দন জানিয়েছেন টাইগারদের।
সোমবার অ্যাডিলেইড ওভালে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ২৭৫ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ২৬০ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড।
২০০৭ বিশ্বকাপে সুপার সিক্স খেলেছে বাংলাদেশ। তবে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা হবে এ প্রথম। বাংলাদেশের ক্রিকেটে মাশরাফিরা আজ ইতিহাস, স্রেফ ইতিহাসই গড়লেন অ্যাডিলেডে।
এ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ।
বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন রুবেল। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি ও তাসকিন। কেবল ব্যাট হাতেই নয়; গ্লাভস হাতেও দুর্দান্ত ছিলেন মুশফিক। উইকেটের পেছনে একাই ক্যাচ নিয়েছেন ৪টি।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করে মাহমুদউল্লাহর ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি ও মুশফিকের ৮৯ রানে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৭৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে বাংলাদেশ।
মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকের পঞ্চম উইকেট জুটিতে আসে ১৪১ রান। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে যেকোনো উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি।
ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের ৪৮ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে ইংল্যান্ড।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অ্যাডিলেইড ওভালে টস হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুতেই ধাক্কা খায় টাইগাররা। প্রথম ওভারেই জেমস অ্যান্ডারসনের বলে ক্রিস জর্ডানের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল কায়েস।
তৃতীয় ওভারে আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল অ্যান্ডারসনের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হলে আরো একবার হোঁচট খায় বাংলাদেশ।
সৌম্য সরকারকে সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন মাহমুদুল্লাহ। ৪০ রান করে সৌম্য সরকার সাজঘরে ফিরলে ভাঙে ৮৬ রানের জুটি। সুবিধা করতে পারেননি দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও।
তবে মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে জুটি গড়েন মুশফিকুর রহিম। ৪৯ বলে ক্যারিয়ারের ২১ তম অর্ধশতক তুলে নেন তিনি।
আরেক প্রান্তে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরির কৃতিত্ব পান মাহমুদুল্লাহ।
মাহমুদুল্লাহর ১০৩ ও মুশফিকুর রহিমের ৮৯ রানে ভর করে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেটে ২৭৫ রানের চ্যালেঞ্জিং টোটাল দাঁড় করায় বাংলাদেশ।