বিশ্বকাপে নিজেদের অতীতের সব সাফল্যকে ছাড়িয়ে এবার টাইগাররা নিজেদের নিয়ে গেল অন্য ঊচ্চতায়। ইংলিশ লায়নদের বধ করে বাংলার টাইগাররা প্রথমবারের মতো জায়গা নিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।
অবশ্য এর আগে ২০০৭ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে সুপার এইটে খেলেছিল বাংলাদেশ।
রুবেলের আউটসুইং জেমস অ্যান্ডারসনের স্ট্যাম্পের বেল উপরে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশও পেয়ে গেল বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত তাদের সেরা অর্জন। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে এ প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায় বাংলাদেশ।
তবে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাতে বাংলাদেশের খেলতে হয়েছে এ নিয়ে পাঁচটি বিশ্বকাপ। এ পর্যন্ত খেলা পাঁচ বিশ্বকাপের মধ্যে এবারের বিশ্বকাপেই টাইগারদের পারফর্মেন্স অন্য সবগুলোকে ছাপিয়ে।
১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপটা ছিল কল্পোনাকেও হার মানালো। পাকিস্তান ও স্কটল্যান্ডকে হারালেও প্রথম রাউন্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল টাইগারদের অভিষেক বিশ্বকাপ।
চার বছর পর বাংলাদেশের কোটি ক্রিকেট ভক্তদের আশাভঙ্গ হয়েছিল চূড়ান্তভাবে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সব থেকে বাজে পারফর্মেন্স ছিল ২০০৩ বিশ্বকাপে। কেনিয়া, কানাডার কাছে হেরে বিশাল এক ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট।
২০০৭ বিশ্বকাপে অন্য এক বাংলাদেশকে দেখে ক্রিকেট বিশ্ব। এ দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের মোড় বদলে দেয়া সে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্রিকেটের তিন রত্ন সাকিব, তামিম, মুশফিকের কল্যাণে গ্রুপ পর্বে ভারতকে হারিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছিল হাবিবুল বাশারের দল। সুপার এইটে তারা বধ করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
দেশের মাটিতে ২০১১ বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বেই আটকে থাকতে হয় টাইগারদের। আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসকে টাইগাররা হারিয়েছিল দেশের মাটিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৫৮ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল। পরের ম্যাচেই ভীষণ উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
সবগুলো বিশ্বকাপের পারফর্মেন্সের বিচারে ২০০৭ বিশ্বকাপের টাইগারদের পারফর্মেন্স ছিল সবথেকে বড় অর্জন। তবে এবারে বিশ্বকাপে টাইগারদের পারফর্মেন্স ছাড়িয়ে গেছে আগের সব সাফল্যকে।
দেশ ছাড়ার আগে মাশরাফিবাহিনী বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার স্বপ্নের কথা বলেছিলেন। দেশকে দেশের মানুষকে আনন্দে ভাসিয়ে টিম বাংলাদেশ সে স্বপ্নের লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে।