বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার হোবার্টে পুল ‘এ’র ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ১৪৮ রানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার দেয়া ৩৬৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে স্কটল্যান্ড ৪৩.১ বলে ২১৫ রান করে।
দ্বিতীয় ইনিংসের ২য় বলেই প্রথম উইকেট হারায় কাইল কোয়েটজার। লাসিথ মালিঙ্গাকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। অষ্টম ওভারে ফিরে যান ক্যালাম ম্যাকলয়েড (১১)। নুয়ান কুলাসেকারার বলে বোল্ড হয়ে যান।
দ্বাদশ ওভারে আঘাত হানেন তিলকারত্নে দিলশান। ম্যাট মাচানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। ৩২তম ওভারে ফিরে যান প্রেস্টন মমসেন (৬০)। ৩৭তম ওভারে বিদায় নেন ফ্রেডি কোলম্যান (৭০)।
৩৮তম ওভারে ফিরে যান মাইকেল লিস্ক (২)। পরের ওভারে বিদায় নেন ম্যাথু ক্রস (৭)।
এর আগে হোবার্টের বেলেরিভ ওভালে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ৩৬৩ রান করে শ্রীলঙ্কা। তবে শুরুটা ভালো হয়নি শ্রীলঙ্কার। ষষ্ঠ ওভারেই লাহিরু থিরিমান্নের উইকেট হারায় গত দুই আসরের রানার্সআপরা। তবে তার কোনো ছাপ শ্রীলঙ্কার ইনিংসে পড়তে দেননি দিলশান ও সাঙ্গাকারা।
দ্বিতীয় উইকেটে দিলশান-সাঙ্গাকারার ১৯৫ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ৩৪তম ওভারে পরপর দুই বলে শতকে পৌঁছান এই দুই ব্যাটসম্যান।
তিন অঙ্কে পৌঁছানোর পরপরই ফিরে যান দিলশান। বিশ্বকাপে চতুর্থ শতক পাওয়া দিলশানকে বিদায় করে ২৮.৫ ওভার স্থায়ী জুটি ভাঙেন জস ডেভি। ৯৯ বলে খেলা দিলশানের ১০৪ রানের ইনিংসটি ১০টি চার ও ১টি ছক্কা সমৃদ্ধ। ওয়ানডেতে এটি তার ২২তম শতক।
পরের ওভারে পরপর দুই বলে মাহেলা জয়াবর্ধনে ও সাঙ্গাকারাকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান স্কটল্যান্ডের সেরা বোলার ডেভি। হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও এবারের আসরে সর্বোচ্চ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব এখন তারই।
১৪টি উইকেট নিয়ে নিউ জিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্ট ও টিম সাউদিকে পেছনে ফেলেছেন ডেভি।
ডেভির তৃতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ১২৪ রানের দারুণ একটি ইনিংস খেলেন সাঙ্গাকারা। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ও বিশ্বকাপ টানা চার ম্যাচে শতক করার কৃতিত্ব দেখান তিনি। আগের তিন ম্যাচে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শতক করেছিলেন তিনি।
সাঙ্গাকারার রেকর্ড গড়া ৯৫ বলের ইনিংসটি ১৩টি চার ও ৪টি ছক্কা সমৃদ্ধ।
দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙার পর শ্রীলঙ্কার আর কোনো জুটিই চার ওভার পর্যন্ত স্থায়ী হয়নি। নেমেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস কুশল পেরেরার সঙ্গে ৫৪ ও থিসারা পেরেরার সঙ্গে ৩৭ রানের দুটি জুটি উপহার দেন।
২০ বলে অর্ধশতকে পৌঁছান অধিনায়ক ম্যাথিউস। সুবাদে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েন তিনি। টানা চারটি ছক্কা হাকিয়ে সীমানায় ক্যাচে পরিণত হওয়া ম্যাথিউসের (৫১) ২১ বলের ইনিংসটি সাজানো ১টি চার ও ৬টি ছক্কায়।
অধিনায়কের বিদায়ের পর নিয়মিত উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ১০ রানের মধ্যে চার উইকেট হারালেও দশম উইকেট জুটির দৃঢ়তায় সাড়ে তিনশ' পার হয় তাদের সংগ্রহ। ১৯ বলে ২৭ রানেরঅবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন নুয়ান কুলাসেকারা ও দুশমন্ত চামিরা।