বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব সুরেশ রায়না ও মহেন্দ্র সিং ধোনির দৃঢ়তায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় পেলো ভারত। দীর্ঘদিন রান খরায় ভুগতে থাকা সুরেশ রায়না দুর্দান্তভাবে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন। দলের প্রয়োজনে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছানোর কাজটিও করে চলেছেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়ে।
অপরপ্রান্তে দলপতিও কম যান না, তিনিও হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে শেষ হাসি হাসানোর দায়িত্ব নিয়ে খেলছেন। ২৮৮ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নামা ভারতের প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত সংগ্রহ ৪৬ ওভারে ২৫৬ রান। অনবদ্য শতক পূরণ করে রায়না খেলছেন ১০৬ রানে আর ধোনি আছেন ৫৯ রানে।
এবারের বিশ্বকাপে টানা ষষ্ঠ জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট খুইয়ে ফেলে ভারত। ২১ রানের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ানকে সাজঘরে পাঠান তিনাশে পানিয়াঙ্গারা। এ পেসারের বলে রোহিত ক্যাচ দেন সিকান্দর রাজার হাতে, আর শিখরের ব্যাটে লাগা বল আঁচড়ে পড়ে স্ট্যাম্পে।
রোহিত-শিখরের বিদায়ের পর নামেন বিরাট কোহলি ও আজিঙ্কা রাহানে। এ ২ জন ইনিংস মেরামত করে বড় পার্টনারশিপ গড়ার ইঙ্গিত দেন। কিন্তু জুটিতে ৫০ রান তুলতেই ভুল বোঝাবুঝির বলি হন রাহানে। সিকান্দর রাজার দুর্দান্ত থ্রোতে ১৯ রান করে দলীয় ৭১ রানের মাথায় মাঠ ছাড়েন তিনি। তার বিদায়ের পর মাঠে নামেন সুরেশ রায়না।
রায়নাকে নিয়ে খেলতে থাকলেও ভারতের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা কোহলিও দলীয় ৯২ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৩৮ রানে সিকান্দর রাজার ঘূর্ণি বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে যান। তার বিদায়ে শত রান পূরণের আগেই স্কোরবোর্ড থেকে ৪ উইকেট পড়ে হয়ে যায় ভারতের।
তবে কোহলির বিদায়ের পর মাঠে নেমে রায়নার সঙ্গে মিলে ফের ইনিংস মেরামতে মনোনিবেশ করেন ধোনি। এ ২ জনের জুটিতেই এখন জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন ভারতীয় সমর্থকরা।
এর আগে শন উইলিয়ামস ও ক্রেইগ আরভিনের সঙ্গে দুটি ভালো জুটি উপহার দিয়ে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন টেইলর। তার টানা দ্বিতীয় শতকে ৭ বল বাকি থাকতে অলআউট হওয়ার আগে ২৮৭ রান করে জিম্বাবুয়ে।
১০০ রানের আগেই প্রথম চার ব্যাটসম্যানের বিদায়ে এক সময় চাপে পড়ে ভারত। তবে রায়না ও ধোনির দারুণ ব্যাটিংয়ে ৮ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
শেষ পর্যন্ত বড় সংগ্রহ গড়লেও শুরুটা ভালো হয়নি জিম্বাবুয়ের। ১১ ওভারে ৩৩ রান যোগ করতেই প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় তারা।
ভারতের তিন পেসার এই সময়ে নেন একটি করে উইকেট। তাদের দারুণ বোলিংয়ে প্রথম ১৬ ওভারে ৪৬ রানের বেশি করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে।
চতুর্থ উইকেটে শন উইলিয়ামসের সঙ্গে ৯৩ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেন টেইলর। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে উইলিয়ামসের বিদায়ে ভাঙে ১৭.৩ ওভার স্থায়ী জুটি।
৫৭ বলে খেলা উইলিয়ামসের ৫০ রানের ইনিংসটি গড়া তিনটি করে ছক্কা ও চারে।
পঞ্চম উইকেটে ক্রেইগ আরভিনের সঙ্গে ১০৯ রানের আরেকটি ভালো জুটি উপহার দেন টেইলর। এই জুটি গড়ার পথে ক্যারিয়ারের অষ্টম শতকে পৌঁছান তিনি। অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলকে পেছনে ফেলে ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে বেশি শতকের রেকর্ড নিজের করে নিলেন তিনি।
মোহিত শর্মার বলে শিখর ধাওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় টেইলরের ১৩৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি। তার ১১০ বলের ইনিংসটি ১৫টি চার ও ৫টি ছক্কা সমৃদ্ধ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচেই ১২১ রানের দারুণ একটি ইনিংস খেলেছিলেন টেইলর।
টেইলরের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকেননি আরভিনও। এরপর সিকান্দার রাজা ছাড়া আর কেউ ভালো করতে না পারায় সংগ্রহ আরো বড় হয়নি জিম্বাবুয়ের। মাত্র ১১ রান যোগ করতে শেষ চার উইকেট হারায় তারা।
ভারতের তিন পেসার উমেশ যাদব, মোহাম্মদ সামি ও মোহিত তিনটি করে উইকেট নেন।