অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে বাংলাদেশকে ১০৯ রান হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলো ভারত। বাংলাদেশ ৪৫ ওভারে ১৯৩ রান করে অলআউট হয়।
রবীন্দ্র জাদেজার করা ৪৩তম ওভারের শেষ বলে রোহিত শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩৪ বলে ছয়টি চারে ৩৫ রান করে সাজঘরে ফিরেন বাংলাদেশের সপ্তম ব্যাটসম্যান নাসির হোসেন। এরপর মাশরাফি বিন মর্তুজাও আউট হলে আট উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। এরপর আর কেউ দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ প্লেয়ারা।
হাইভোল্টেজ ম্যাচে ভারতের ছুড়ে দেয়া ৩০৩ রানের টার্গেটে বাংলাদেশের হয়ে ব্যাটিং সূচনা করতে আসেন দুই বাঁহতি ওপেনার তামিম ইকবাল এবং ইমরুল কায়েস।
রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল বেশ ভালোভাবেই ভারতীয় বোলারদের খেলছিলেন। প্রতিপক্ষ ভারত বলেই কিনা তামিম কিছুটা মারমুখি হয়ে খেলতে থাকেন। সামির করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারে তামিম তিনটি চার মারেন।
তবে, ইনিংসের সপ্তম ওভারে উমেস যাদবের বলে উইকেটের পিছনে ধোনির গ্লাভসবন্দি হয়ে ফেরেন তামিম। আউট হওয়ার আগে তিনি ২৫ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ২৫ রান করেন। একই ওভারে রানআউটের ফাঁদে পড়েন ইমরুল কায়েস (৫ রান)।
ভারতীয় বোলারদের বেশ সহজে মোকাবেলা করেও দুর্ভাগ্যবশত আউট হয়ে ফেরেন গত দুই ম্যাচের টানা সেঞ্চুরিয়ার মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ। বাউন্ডারি সীমানা ঘেঁসে রিয়াদের ক্যাচটি লুফে নেন শিখর ধাওয়ান। সৌম্যর সঙ্গে ৪০ রানের জুটি গড়ে ফেরেন রিয়াদ। আউট হওয়ার আগে রিয়াদ ৩১ বলে ২১ রান করেন।
তামিম, ইমরুল আর মাহামুদুল্লাহর পথে ফেরেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার। সামির বলে উইকেটের পিছনে ধোনির তালুবন্দি হয়ে ফেরেন সৌম্য। আউট হওয়ার আগে ৪৩ বলে তিনটি চার আর একটি ছয়ে ২৯ রান করেন সৌম্য।
দলীয় ৯০ রানের মাথায় টপঅর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে হারানো টাইগারদের ব্যাটিং হাল ধরার চেষ্টা করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এবং মুশফিকুর রহিম। স্কোরবোর্ডে আর মাত্র ১৪ রান যোগ করেই বিদায় নেন সাকিব। উইকেটে সেট হয়েও ৩৪ বলে মাত্র ১০ রান করে রবীন্দ্র জাদেজার বলে সামির তালুবন্দি হন সাকিব।
টপঅর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যানকে হারানো বাংলাদেশের হয়ে ব্যাটিং ক্রিজে মুশফিকুর রহিম এবং সাব্বির রহমান মিলে ৩৫ রানের জুটি গড়েন। যাদবের করা ৩৬তম ওভারের প্রথম বলে ধোনির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুশফিক। আউট হওয়ার আগে ডানহাতি এ ব্যাটসম্যানের থেকে আসে ২৭ রান। মুশফিকের ৪৩ বলের ইনিংসে কোনো ছয় না থাকলেও ছিল দুটি চার।
পাওয়ার প্লে’ ১০ ওভার শেষে টাইগারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান। ২০ ওভার শেষে টাইগারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেট হারিয়ে ৮৬ রান। আর ৩০ ওভার শেষে টাইগারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেট হারিয়ে ১০৮ রান। ৪০ ওভার শেষে টাইগারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মার ব্যাটে ভর করে এগুতে থাকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে ইনিংসের ৪৭তম ওভারে তাসকিনের ওপর চড়াও হলেও শেষ বলে বোল্ড করে রোহিতকে পাল্টা জবাব দিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠান তাসকিন। নিজের পরের ওভারে তাসকিন ধোনিকে নাসিরের ক্যাচে পরিণত করে সাজঘরে ফেরান।
এর আগে ভারতের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের হয়ে বোলিং সূচনা করতে আসেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। আর ভারতের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে আসেন শিখর ধাওয়ান এবং রোহিত শর্মা। প্রথম ওভার থেকে ভারতীয় ওপেনাররা তুলে নেন ৮ রান। মাশরাফির অফ স্ট্যাম্পের বাইরে করা বলে চার মেরে শুরু করেন রোহিত শর্মা।
ইনিংসের ১৭তম ওভারে সাকিবের ঘূর্ণি জাদুতে কুপোকাত হয়ে সাজঘরে ফেরেন ধাওয়ান। মুশফিকের স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়ে ধাওয়ান আউট হওয়ার আগে করেন ৫০ বলে ৩০ রান। এরপর রুবেলের বলে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হয়ে ফেরেন ডেঞ্জারম্যান বিরাট কোহলি। সাজঘরে ফেরার আগে তিনি ৮ বলে করেন মাত্র ৩ রান।
শিখর ধাওয়ান আর বিরাট কোহলিকে হারানোর পর টাইগার বোলারদের সতর্ক থেকে মোকাবেলা করছিলেন রোহিত শর্মা এবং অজিঙ্কা রাহানে। তবে, ইনিংসের ২৮তম ওভারে তাসকিনের বলে সাকিবের অসাধারণ ক্যাচে সাজঘরের পথ ধরেন রাহানে। আউট হওয়ার আগে রাহানে করেন ৩৭ বলে ১৯ রান।
সুরেশ রায়নাকে ফেরান টাইগার দলপতি মাশরাফি। ইনিংসের ৪৪তম ওভারে মাশরাফির বল তুলে মারতে গিয়ে উইকেটের পিছনে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হন রায়না। আউট হওয়ার আগে তিনি ৫৭ বলে ৬৫ রান করেন।
চলতি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামে বাংলাদেশ এবং ভারত। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এ ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।
পাওয়ার প্লে তে (প্রথম ১০ ওভার) ভারতের দুই ওপেনার তুলে নেয় ৫১ রান। ২০ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় দুই উইকেট হারিয়ে ৮৪ রান। আর ৩০ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ৩ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান।
বাংলাদেশ-ভারত এ অবধি ২৮বার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে ভারতের জয় ২৪টিতে, বাংলাদেশের তিন ম্যাচে। পরিত্যক্ত হয়েছে একটি ম্যাচ। তিন জয়ের মধ্যে বাংলাদেশের দুটি জয়ই এসেছে এই মার্চ মাসে। আর বিশ্বকাপের শেষ আটের ম্যাচটিও স্বাধীনতার মাসে হওয়ায় সবটুকু শক্তি দিয়ে টাইগাররা ভারতের বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে আনার চেষ্টা করবে।