সেই চিরচেনা দক্ষিণ আফ্রিকা, ১৯৯৯ এর এজবাস্টন যেন ফিরে এলো অকল্যান্ডে। ঢিল ছোড়া দুরত্বে এসেও ফাইনালে ওঠা হলো না প্রোটিয়াদের। এবারও চোকার্স নামটা ঘোঁচাতে পারলো না তারা। নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলো দক্ষিণ আফ্রিকা।
দারুন উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে উঠলো নিউজিল্যান্ড। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে দক্ষিণ আফ্রিকার দেয়া ৪৩ ওভারে ২৯৮ রানের টার্গেট, ১ বল হাতে রেখে টপকে যায় ব্ল্যাক ক্যাপরা।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৩১ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। তবে রাইলি রুশোর সঙ্গে ৮৩ ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে ১০৩ রানের জুটি গড়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন ফ্যাফ ডু প্লেসিস।
ডু প্লেসিসের ৮২, এবি ডি ভিলিয়ার্সের অপরাজিত ৬৫ ও ডেভিড মিলারের ৪৯ রানে ভর করে ৪৩ ওভারে ৫ উইকেটে ২৮১ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃষ্টির জন্য, প্রায় এক ঘণ্টা খেলা বন্ধ ছিল। সে কারণে ডিএল মেথডে জয়ের জন্য স্বাগতিকদের দেয়া হয় ৪৩ ওভারে ২৯৮ রানের টার্গেট।
জবাব দিতে নেমে ভালো শুরু করেন দুই কিউই ওপেনার ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও মার্টিন গাপটিল। দলীয় ৭১ রানে ম্যাককালামকে ফিরিয়ে প্রথম ব্রেকথ্রু আনেন মর্নি মরকেল। কিছুক্ষণের মধ্যে ফেরত যান কেইন উইলিয়ামসনও। ১৪৯ রানের মধ্যে গাপটিল ও রস টেইলর বিদায় নিলে চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড।
তবে ৫ম উইকেটে কোরি অ্যান্ডারসনের সঙ্গে ১০৩ রানের জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডকে খেলায় ফেরান গ্র্যান্ট ইলিয়ট। অন্যপ্রান্তে ৫৮ রান করা অ্যান্ডারসন ও ৮ রান করা রঙ্কিকে সাজঘরে পাঠিয়ে খেলায় জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলেন মরকেল ও স্টেইনরা।
ম্যাচের শেষ কয়েক ওভারে বেশ কয়েকটি আউটের সহজ সুযোগ নষ্ট করে চোকার্সরা, ৩ বার জীবন ফিরে পান ইলিয়ট। শেষ পর্যন্ত ওই ভুলগুলোরই খেসারত দিতে হয়েছে তাদের।
স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচে শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিলো ১২ রান। ইলিয়টের ৭৩ বলে ৮৪ রানের ইনিংসে ভর করে ১ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড।