দীর্ঘ সময় পর টেস্ট খেলতে নেমে সাবলীল ব্যাটিং করে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষ করেছে টাইগার বাহিনী। প্রথম দিনটি ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৩৬ রান।
ওয়ানডে সিরিজ আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নিজেদের করে নেয়ার পর টেস্টেও নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে মুশফিক বাহিনী। তবে টাইগার ভক্তদের আক্ষেপে রেখে ইনিংস শেষের এক বল আগে এলবির ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন মমিনুল হক।
দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। এ ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি মুশফিকুর রহিম।
বাংলাদেশের হয়ে ব্যাটিং সূচনা করতে ক্রিজে আসেন ৩৮ ম্যাচ খেলা তামিম ইকবাল এবং ২০ ম্যাচ খেলা ইমরুল কায়েস। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) র্যাকিংয়ে চার নম্বর দল পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে বেশ সতর্ক সূচনা করেন দুই ওপেনার।
লম্বা সময় সীমিত ওভারের ম্যাচ খেলেও টেস্ট ম্যাচে টাইগার দুই ওপেনার ব্যাটসম্যানের ব্যাটিংয়ে কোনো বাজে প্রভাব পড়েনি। তামিম এবং ইমরুল বেশ সাবলীল ভাবেই ব্যাট করে যাচ্ছিলেন। তবে ইনিংসের ২৭তম ওভারে ইয়াসির শাহের বলে শর্টে দাঁড়ানো আজহার আলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তামিম।
টেস্টে ইনিংস সর্বোচ্চ ১৫১ রান করা তামিম পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন বিদায় নেয়ার আগে করেন ২৫ রান। তার ৭৪ বলের ইনিংসে ছিল তিনটি বাউন্ডারি।
দলীয় ৫২ রানের মাথায় বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল বিদায় নিলে আরেক ওপেনার ইমরুল কায়েসের সঙ্গে জুটি বাধতে আসেন মমিনুল হক। মধ্যহ্ন বিরতির পর আবারো ব্যাটিং শুরু করে টাইগাররা।
দ্বিতীয় সেশনের শুরু থেকেই ভালো খেলতে থাকা ওপেনার ইমরুল কায়েস ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক হাঁকিয়ে ৫১ রান করে বিদায় নেন। আউট হওয়ার আগে মমিনুলের সঙ্গে ৪০ রানের জুটি গড়েন টেস্ট ক্যারিয়ারে দুটি শতক পাওয়া ইমরুল। মোহাম্মদ হাফিজের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইমরুল।
তামিম-ইমরুল ফিরে গেলে ব্যাটিং ক্রিজের দায়িত্ব নেন বিশ্বকাপের চমক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং টেস্টের ‘বিস্ময়বালক’ মমিনুল হক। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে রিয়াদ তেমন সুবিধা করতে না পারলেও টেস্টের প্রথম দিন বেশ সাবলীল ভাবে ব্যাট চালান। দুই জন মিলে স্কোরবোর্ডে আরও ৯৫ রান যোগ করেন।
টেস্টে টানা চতুর্থ জয়ের লক্ষ্যে তৃতীয় সেশনেও দারুণ খেলে যাচ্ছিল টাইগাররা। ব্যাটিং ক্রিজে থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় সেশনের মতোই উইকেট ধরে রাখতে চেষ্টা করেন মমিনুল এবং মাহমুদুল্লাহ।
তবে ইনিংসের ৭৪তম ওভারে এসে উইকেটের পেছনে সরফরাজ আহমেদের হাতে ক্যাচ তুলে দেন রিয়াদ। ওয়াহাব রিয়াজের বলে আউট হওয়ার আগে রিয়াদ করেন ১২৩ বলে ৬টি চারে ৪৯ রান।