পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট বাঁচাতে ছয় সেশনের বেশি সময় ব্যাট করতে হবে বাংলাদেশকে। তাই রানের বোঝা মাথায় নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু করে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস।
দ্বিতীয় ইনিংসের ১২তম ওভারে গিয়ে ইয়াসির শাহর বলে দলীয় ৪৮ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ১৬ রান করে ইমরুল আউট হন। ইমরুল একমাত্র উইকেট হারিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
আর ৪২ বলে ৬টি চারে ৩২ রান করে অপরাজিত থেকে চতুর্থ দিন ব্যাটিংয়ে নামবেন তামিম ইকবাল। ১৩ বলে তিনটি চারে ১৫ রান করা মুমিনুল থাকবেন তামিমকে সঙ্গ দিতে।
তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ১৪ ওভারে তুলেছে ৬৩ রান। সফরকারী পাকিস্তানকে হারাতে স্বাগতিকদের আরও ৪৮৭ রান করতে হবে। হাতে রয়েছে ৯টি উইকেটে।
এর আগে ৬ উইকেটে ১৯৫ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে ৩৫৪ রানে পিছিয়ে থাকায় জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৫০ রান। টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম শতকের অপেক্ষায় থাকা মিসবাহ ৮২ রান করে মাহমুদুল্লাহর বলে বিদায় হন। এরই সঙ্গে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান।
এদিকে, সকালে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দিনের প্রথম ওভারে মোহাম্মদ শহীদের চতুর্থ বলে উইকেটের পেছনে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন গত টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মোহাম্মদ হাফিজ। এ টেস্টের প্রথম ইনিংসেও শহীদের বলে মুশফিকের গ্লাভসবন্দি হন হাফিজ। সে ইনিংসে তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ৮ রান।
দলীয় কোনো রান না তোলার আগেই হাফিজের বিদায়ের পর দিনের দ্বিতীয় সেশনে ব্যাট হাতে নামেন আজহার আলি এবং সামি আসলাম। উইকেট তুলে নেয়ার চেষ্টা করেন মোহাম্মদ শহীদ। হাফিজের পর শহীদের শিকার হয়ে ফেরেন সামি আসলাম। ৮ রান করে মাহমুদুল্লাহর তালুবন্দি হয়ে ফেরেন আসলাম।
শহীদের পর জ্বলে উঠেন সৌম্য সরকার। নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের অভিষেক উইকেট পান সৌম্য। গত ইনিংসের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান আজহার আলিকে সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি। শুভাগত হোমের হাতে ধরা পড়ে আউট হওয়ার আগে আজহার ৩৮ বলে করেন ২৫ রান।
টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বেশ সতর্ক ব্যাটিং করে যাচ্ছিল সফরকারীরা। তবে দিনের শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে এসে তাইজুলের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ইউনিস। আউট হওয়ার আগে গত ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান করেন ৩৯ রান। মিসবাহর সঙ্গে ৫৮ রানের জুটিও গড়েন ইউনিস।
দলীয় ১৪০ রানের মাথায় শুভাগতের বলে সরাসরি বোল্ড হন আসাদ শাফিক। ব্যক্তিগত ১৫ রান করে সফরকারীদের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন শফিক।
এর আগে বাংলাদেশকে ২০৩ গুটিয়ে দিয়েও খুলনা টেস্ট পাকিস্তানকে ভয় দেখায়। গত টেস্টে প্রায় দুইদিন ব্যাটিং করে ম্যাচ ড্র করেছিল স্বাগতিকরা। তাই বাংলাদেশকে ফলোঅনে না পাঠিয়ে নিজেরাই ব্যাটিংয়ে নেমে যায় সফরকারীরা।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৯ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান তোলে। ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩৫৪ রানে পিছিয়ে থাকে স্বাগতিকরা।