ব্যাটিং-বোলিংয়ে ভারতকে বিধ্বস্ত করে দ্বিতীয় ওয়ানডেও জিতে নিল বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে টাইগাররা প্রথমবারের মত সিরিজ জিতল ভারতের বিপক্ষে। টিম বাংলাদেশের নতুন বিস্ময় পেসার মুস্তাফিজের রেকর্ড উইকেট শিকারের দিনে ২০০ রানেই গুটিয়ে যায় ভারত। আর বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের জয়ের জন্য ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৪৭ ওভারে টার্গেটও ঠিক হয় ২০০। তবে ৫৪ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় মাশরাফি-বাহিনী।
প্রথমবারের মতো ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আনন্দতো এমনই হবে। আর সিরিজ জয়টাও এসেছে এক ম্যাচ হাতে রেখে। মোস্তাফিজুর রহমানের বিদ্ধংসী বোলিংয়ে দ্বিতীয় ম্যাচটাও নিজেদের করে নিল টাইগাররা। সেই সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করতে নামার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।
চার পেস আক্রমণের মূল শক্তি মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে বলে তুলে দেন অধিনায়ক মাশরাফি। প্রথম ওভারেই রোহিতকে আউট করে, সিরিজ জয়ের আশা বাড়িয়ে দেন সাতক্ষীরার ছেলে।
তবে দ্বিতীয় উইকেটে ধাওয়ান-কোহলি'র ৭৪ রানের জুটি চাপ থেকে বের করার চেষ্টা করে ভারতকে। কিন্তু ২৩ রান করা কোহলিকে শিকার বানিয়ে এ জুটি ভাঙ্গেন নাসির। বেশিক্ষণ টিকতে পারেন নি শিখর ধাওয়ানও।
পরের স্পেলে আম্বাতি রাইডুকে শূণ্য রানে ফিরিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর আরো চাপ তৈরি করেন পেসার রুবেল। কিন্তু ধোনী-রায়নার ৫৩ রানের ধীরগতির পার্টনারশীপে, ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করে ভারত। কিন্তু ইনিংসের শেষ পাওয়ার প্লেতে, সেই পরিকল্পনায় বাধ সাধেন মুস্তাফিজ। ৩৪ রানে রায়নার পর ধোনীকেও আউট করে তিনি। পরের বলে প্যাটেলকে ফিরিয়ে ম্যাচের লাগাম টেনে ধরেন এই পেসার।
দলীয় ১৮৪ রানে, অশ্বিনকে ফিরিয়ে টানা দুই ম্যাচে পাঁচ উইকেটে নেয়ার কৃতিত্ব দেখান মুস্তাফিজ। শেষ পযর্ন্ত ৪৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২০০ রান করে ভারত।
ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে জয়ের জন্য ৪৭ ওভারে ২০০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা পরিকল্পিত করলেও দলীয় ৩৪ রানে তামিম ইকবাল আউট হন।
তবে সৌম্য সরকারকে নিয়ে টাইগারদের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান লিটন কুমার দাস।
মারকুটে ভঙ্গিতে খেলতে থাকা সৌম্যকে লেগ বিফোরের ফাদে ফেলেন অশ্বিন। অপর প্রান্তে থাকা লিটন ব্যাক্তিগত ৩৬ রানে প্যাটেলের শিকার হন।
ভারতের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্যে হাল ধরেন সাকিব ও মুশফিক। তবে দলীয় ১৫৪ রানে সাকিবের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে রানআউট হন মুশফিক।
তবে এরপর বাকি কাজটা সহজেই সারেন সাকিব ও সাব্বির। হাফসেঞ্চুরি পূরণ করার সঙ্গে ভারতের বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে আনেন সাকিব।
ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের সঙ্গে দলের অন্য অর্জনেও আনন্দিত টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।
মাফরাফি বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে আমরা প্রথমবারের মত সিরিজ জিতেছি সেই সঙ্গে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিশ্চিত করেছি। এই অর্জনে অধিনায়ক হিসেবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’