শেষ ওয়ানডে ম্যাচ জিতে বাংলাওয়াশের লজ্জা এড়ালো ভারত। আর ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। সিরিজ সেরা হয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান।
বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ভারতের দেওয়া ৩১৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশ করে ২৪০ রান। ফলে টাইগারদের হার ৭৭ রানে।
এ সিরিজ জিতে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে সপ্তম স্থান দখল করে ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে টাইগাররা। আর ক্যারিয়ারের প্রথম তিন ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রায়ান হ্যারিসের গড়া বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসালেন ক্রিকেট বিশ্বের নতুন বিস্ময় মুস্তাফিজুর।
ভারতের বিপক্ষে ২-১ এ প্রথমবারের মতো সিরিজ জিতে নিল টাইগাররা। তবে টিম ইন্ডিয়াকে বাংলাওয়াশ করতে না পারার আক্ষেপের কিছুটাতো রয়েই যাবে মাশরাফি বাহিনীর।
দিনের শুরুটা অবশ্য টস জয়ের সৌভাগ্য নিয়েই শুরু করেছিলেন মাশরাফি। তবে মিরপুরের ব্যাটিং উইকেটেও টস জিতে ভারতকে ব্যাটিং এ পাঠানোটা হয়তো মাত্রাতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসেরই ফল।
ম্যাশের আস্থার প্রতিদান এ ম্যাচেও দিয়েছেন মুস্তাফিজ ২৯ রানে রোহিতকে ফিরিয়ে দিয়ে। তবে পেসার তাসকিনের পরিবর্তে ডাক পাওয়া আরাফাত সানিকে বেদম পিটিয়েছে ভারতীয় পেসাররা।
ভারতীয় ওপেনার ধাওয়ান ৭৫ রানে আউট হন। অন্য প্রান্তে ব্যাটিং অর্ডারে এগিয়ে আসা ধোনিও খেলেছেন ৬৯ রানের কার্যকরী ইনিংস।
ব্যক্তিগত ৪৪ রানে আম্বাতি রায়ড়ু আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলেও, সুরেশ রায়নার ২১ বলে ৩৮ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রান করে ভারত।
ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথমেই কপাল পোড়ে টাইগার ওপেনার তামিম ইকবালের। আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে হাঁটতে হয় তাকে ড্রেসিংরুমের পথে।
তামিমের অভাবটা অবশ্য বুঝতে দেননি সৌম্য সরকার। দুর্দান্ত সব স্ট্রোকে পৌছে যান ৪০ রানে। তারপরই ধাওয়াল কুলকার্নির বলে আশ্বিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে না পারলেও লিটন ও মুশফিকের পার্টনারশীপ আশা যোগাচ্ছিল বাংলাদেশ সমর্থকদের। ব্যক্তিগত ৩৪ রানে লিটন ও ২৪ রানে মুশফিক আউট হলে ম্যাচের মোড় ঘুরতে থাকে।
এদিকে দারুন সব শট খেলে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানোর চাপ সামলে নেন সাব্বির ও সাকিব।
তবে ম্যাচের ওই মুহূর্তে ১৫২ ওয়ানডের অভিজ্ঞতা থাকা সাকিবের আউটই ছিল এ ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার আউট হলে আবারো ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ।
এরপর সাব্বির ও নাসির আত্মবিশ্বাসী স্ট্রোক খেললেও ম্যাচ বাঁচাতে পারেননি।
সাব্বির ব্যক্তিগত ৪৩ ও নাসির আউট হন ৩২ রানে। শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংস থামে ২৪০ রানে।
তবে বাংলাওয়াশ করতে না পারলেও ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের পারফরমেন্সই হয়ে থাকবে বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের পরিবর্তনের বাঁক। প্রথম দুই ম্যাচে দুমড়ে মুচড়ে ভারতকে হারানো বাংলাদেশ নিশ্চিত করেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা।
আর নতুন বিস্ময় মুস্তাফিজ-লিটনরা অভিষেক সিরিজেই উদযাপন করেছে টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের আনন্দে।