ক্রিকেটে বাংলাদেশের জাতীয় দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে, আসছে ধারাবাহিক সাফল্য। দারুণ খেলছে যুব ক্রিকেটাররাও। ক্রিকেট সাফল্যের আরেক দরজা খুলেছেন আমাদের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ক্রিকেটদল। প্রতিভায় জয় করেছেন চোখে দেখতে না পারার প্রতিবন্ধিত্ব। ব্যাট-বলের লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পাচ্ছেন তারা।
দৃষ্টিহীনদের এই ক্রিকেট-যুদ্ধের নেতা বাংলাদেশ ব্লাইন্ড ক্রিকেট টিমের অধিনায়ক হাফিজুর রহমান বুলেট।
পৃথিবীর বর্ণিল সৌন্দর্য্য থেকে বঞ্চিত তারা। কেউবা এই সৌন্দর্য্য আংশিক উপভোগ করতে পারেন। আর অন্যদের পুরোপুরি ভরসা করতে হয় শ্রবণযন্ত্রের ওপর। তবু ক্রিকেটকে ভালোবেসে লড়াই চালিয়ে যান তারা। বোলিং-ব্যাটিং-ফিল্ডিং করতে হয় শুনে। বল করতে হয় গড়িয়ে। এমনই বিচিত্র দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ক্রিকেট।
দৃষ্টিশক্তি হারালেও মনোবল হারাননি এই মানুষগুলো। ত্রিকেট খেলে শুধু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও কুড়িয়েছেন সাফল্য। এরই মধ্যে ২০১২ সালের টি-টোয়েন্টি ও ২০১৪ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের ব্লাইন্ড ক্রিকেটাররা।
এই ক্রিকেটারদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বুলেট। ২০১২ সালে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় ব্লাইন্ড ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গ্র্যাজুয়েট।
একসময় দৃষ্টিশক্তিতে কোনো সমস্যাই ছিল না তার। সাধারণ শিশুদের মতোই চশমা পড়ে বেড়ে উঠেছেন বুলেট। কিন্তু ২০০৩ সালে হঠাৎ ওলট-পালট হয়ে যায় সব। ডাক্তারের কাছে জানতে পারেন। রেটিনা পিগমেনটোসায় আক্রান্ত তিনি। দৃষ্টিশক্তি কমে আসায় স্বাভাবিক জীবন থমকে দাড়ায়। কর্মক্ষেত্র ছেড়ে ফিরে যান ক্রিকেট মাঠে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ক্রিকেটে অংশ নিয়ে নতুন করে জয় করেন জীবনকে।
ছোটবেলায় ক্রিকেটের পাশাপাশি সঙ্গীতেও পারদর্শী ছিলেন বুলেট। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে তাই বুলেট গেয়েছেন ব্লাইন্ড ক্রিকেট নিয়ে বিশ্বের প্রথম গান।