জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাট করে বাংলাদেশের ঘরে আসে ২৪১ রান।
সোমবার দুপুর ১টায় ঢাকার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয়। টস জিতে আগে বল করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক এল্টন চিগুম্বুরা।
বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মাহমুদুল্লাহ, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), আরাফাত সানি, আল-আমিন হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান
জিম্বাবুয়ে দল: চামু চিবাবা, রেগিস চাকাভা (উইকেটরক্ষক), ক্রেইগ আরভিন, শ্যেন উইলিয়ামস, এল্টন চিগুম্বুরা (অধিনায়ক), সিকান্দার রাজা, ম্যালকম ওয়ালার, লুক জংয়ে, গ্রায়েম ক্রেমার, টিনাশে পানিয়াঙ্গারা ও তাউরাই মুজারাবানি।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করার স্বাগতিকরা। ফলে জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪২ রান।
বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস। এছাড়া নাসির হোসেন ৪১ ও সাব্বির রহমান ৩৩ রান করেন।
জিম্বাবুয়ের পক্ষে পেসার টিনাশে পানিয়াঙ্গারা ৪১ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া গ্রায়েম ক্রেমার ও মুজারাবানি ২টি করে এবং লুক জংয়ে ও শ্যেন উইলিয়ামস ১টি করে উইকেট নেন।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সতর্ক শুরু করেন বাংলাদেশের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। উদ্বোধনী জুটিতে ৭ ওভারে তারা দলীয় সংগ্রহে ৩২ রান যোগ করেন।
ইনিংসের সপ্তম ওভারে দলীয় ৩২ রানেই বাংলাদেশের প্রথম উইকেটের পতন হয়। টিনাশে পানিয়াঙ্গারার করা ওই ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল। অফস্ট্যাম্পের বাইরের একটি বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৩টি চারের সহায়তায় ২৫ বলে ১৯ রান করেন তিনি।
এরপর ইনিংসের একাদশ ওভারে দলীয় ৪৭ রানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেটের পতন হয়। ওই ওভারের পঞ্চম বলে পানিয়াঙ্গারার দেওয়া বাউন্সারে পরাস্ত হয়ে উইকেটরক্ষকের কাছে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন লিটন দাস। তিনি করেন ৭ রান।
ইনিংসের ১৮তম ওভারে দলীয় ৭৯ রানে বাংলাদেশের তৃতীয় উইকেটের পতন হয়। গ্রায়েম ক্রেমারের করা ওই ওভারের চতুর্থ বলে উইকেটরক্ষক চাকাভার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল্লাহ। তিনি করেন ৪ রান।
এরপর চতুর্থ উইকেট জুটিতে মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে ৪৮ রানের জুটি গড়েন ইমরুল। ইনিংসের ২৮তম ওভারে বোলিংয়ে এসে মুশফিকুর রহিমকে আউট করে জুটি ভাঙ্গেন জিম্বাবুয়ের স্পিনার গ্রায়েম ক্রেমার। লুক জংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেওয়ার আগে মুশফিক করেন ২১ রান।
অর্ধশতক তুলে নিয়ে দারুণ খেলতে থাকা ইমরুল ইনিংসের ৩২তম ওভারে হঠাৎ ধৈর্য্য হারিয়ে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিলে দলীয় ১৫১ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। উইলিয়ামসনের বলে মিডঅফে গ্রায়েম ক্রেমারের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেওয়ার আগে ইমরুল ছয়টি চার ও চারটি ছয়ের সাহায্যে ৮৯ বলে ৭৬ রান করেন।
এরপর ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে সাব্বির ও নাসির দলীয় সংগ্রহে ৪২ রান যোগ করেন। ৪২তম ওভারে দলীয় ১৯৩ রানে সাব্বিরকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে জুটি ভাঙ্গেন জংয়ে। উইকেটের পেছনে চাকাভার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে সাব্বির করেন ৩৩ রান।
সাব্বিরের বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামেন অধিনায়ক মাশরাফি। সপ্তম উইকেট জুটিতে নাসির ও মাশরাফি দলীয় সংগ্রহে আরও ৩৮ রান যোগ করেন। দলীয় ২৩১ রানে মাশরাফির বিদায়ে ভাঙ্গে জুটি। মুজারাবানির করা ৪৭তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে চিবাবার তালুবন্দি হওয়ার আগে মাশরাফি করেন ১৩ রান।
পরের ওভারেই নাসির হোসেন আউট হয়ে গেলে দলীয় সংগ্রহ আড়াইশ পার করার সম্ভাবনা ফিকে হয়ে যায়। দলীয় ২৩৪ রানে পানিয়াঙ্গারার বলে ক্রেমারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরার আগে নাসির করেন ৪১ রান।
নাসির আউট হওয়ার ঠিক ছয় বল পর আরাফাত সানিও ফেরেন সাজঘরে। মুজারাবানির বলে আরভিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেওয়া আগে ৩ রান করেন তিনি।
এরপর বাকি ৮ বলে ৫ রান তুলতে সক্ষম হন শেষ দুই ব্যাটসম্যান আল-আমিন ও মুস্তাফিজ। ফলে ২৪১ রানেই শেষ হয় স্বাগতিকদের ইনিংস।
শনিবার একই মাঠে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১৪৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে টাইগাররা। এই ম্যাচটি জিতে আজই সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে প্রত্যয়ী মাশরাফি বাহিনী। এদিকে স্বাগতিকদের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে সিরিজে টিকে থাকতে মরিয়া জিম্বাবুয়েও।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দু'দলেই আছে একটি করে পরিবর্তন। সাকিব আল হাসানের পরিবর্তে বাংলাদেশ দলে জায়গা পেয়েছেন ইমরুল কায়েস। অন্যদিকে প্রথম ওয়ানডেতে ইঞ্জুরিতে পড়া জিম্বাবুয়ের উইকেটরক্ষক রিচমন্ড মুতুমবামির পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে রেগিস চাকাভাকে।
শনিবার সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে টাইগাররা। এই ম্যাচটি জিতে আজই সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে প্রত্যয়ী মাশরাফি বাহিনী।