এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে ভারতকে ১২১ রানের টার্গেট দেয় টাইগাররা। জবাবে ৮ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে ভারত। ৬ষ্ঠ বারের মতো এশিয়া কাপ ঘরে তুলল তারা।
বাংলাদেশ:
শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে বাংলাদেশ। চার বছর আগের সেই কান্নাটাকে হাসিতে পরিণত করতে পারেনি তবে এই টুর্নামেন্ট মধ্য দিয়ে এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের আরো প্রতিষ্ঠিত করলো বাংলাদেশ।
প্রতীক্ষিত এ ম্যাচে শুরুর দিকে উইকেট পড়ার পাশাপাশি নিয়মিত চার-ছয় মারতে না পারার ব্যর্থতায় স্বাগতিকদের ১০০ পেরোনোই কঠিন হয়ে পড়ে।
অপেক্ষার অবসান হয় কিছু সময়ের পরে, সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৩ বলে অপরাজিত ৩৩ রান করে বাংলাদেশের বোলারদের লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন দারুণ ফর্মে থাকা মাহমুদউল্লাহ। দুই জনের ৪৫ রানের জুটি জমে ওঠে ২০ বলে।
আর তাকে সঙ্গ দেন সাব্বির রহমান। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ইনিংসটাকে ধরে রাখেন ২৯ বলে ৩২ রান করা এ ডান হাতি ব্যাটসম্যান।
আশিস নেহরার পর পর দুই বল বাউন্ডারি পার করে তৃতীয় চার মারতে গিয়ে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সৌম্য সরকার (৯ বলে ১৪)।
পরের ওভারেই জাসপ্রিত বুমরাহর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল (১৭ বলে ১৩)। পাওয়ার প্লের ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলতে পারে ৩০ রান।
দ্রুত ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশ প্রতিরোধ গড়ে সাকিব আল হাসান আর সাব্বির রহমানের ৩৪ রানের জুটিতে। অশ্বিনের বলে স্লগ সুইপ করতে দিয়ে শর্ট লেগে বুমরাহর হাতে ধরা পড়েন সাকিব (১৬ বলে ২১)।
ব্যাটে বলে সংযোগ হচ্ছিল না মুশফিকুর রহিমের। বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতেও পারেনি। দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট হন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। শেষ মুহূর্তে ডাইভ দিলেও ব্যাট উঁচিয়ে থাকায় ফিরতে হয় তাকে।
জাদেজার পরের বলেই ডিপ মিডউইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বিরাট কোহলিকে ক্যাচ দেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। এরপরই শুরু মাহমুদুল্লাহ আর সাব্বিরের পাল্টা আক্রমণ।
দুই চারে নেহরার ত্রয়োদশ ওভারে আসে ১৪ রান। পান্ডিয়ার পরের ওভারে আসে ইনিংসের সর্বোচ্চ ২১ রান, দুই ছক্কা আর এক চারে মাহমুদউল্লাহই নেন ১৯ রান। শেষ ওভারটা মনমতো না হলেও এই রান নিয়ে লড়াই করতে পারবে স্বাগতিকরা।
এনিয়ে টুর্নামেন্টে টানা চার ম্যাচে অপরাজিত থাকলেন ফিনিশারের নতুন ভূমিকা নেয়া মাহমুদুল্লাহ।
টস হেরে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ আর টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতের ক্রিকেট দলের আধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি।
বৃষ্টি ও ঝড়ো হওয়ার কারণে ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা মধ্যে ১৫ ওভার খেলার সিদ্ধান্ত হয়। রাত ৯টা ১০মিনিটে টস হয়।
আম্পায়াররা রাত পৌনে ৯টার দিকে মাঠ পরিদর্শন করে এ সিদ্ধান্ত নেন।
রাত পৌনে ৯টার দিকে আম্পায়াররা মাঠে নামেন ও জানিয়ে দেন সাড়ে ৯টায় বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ শুরু হচ্ছে। উভয় দল ১৫ ওভার করে খেলবে। একেকজন বোলার ৩ ওভার করে বল করতে পারবেন।
এর মধ্যেই দুই দলের খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে হালকা অনুশীলনে গা গরম করে নেন।
মিরপুর স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল।
সন্ধ্যার পর পরই মিরপুরে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। মাঠের বিভিন্ন অংশ পানি জমে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু হয়নি।
সন্ধ্যা থেকেই কালো মেঘ ছিল স্টেডিয়ামের আকাশে। গুড়ি বৃষ্টির সঙ্গে বিদ্যুৎও চমকাচ্ছিল। তখন পিচ ঢাকা ছিল আবরণে। তবে সোয়া ছয়টার দিকে শুরু হয় প্রচণ্ড ধুলোঝড়। প্রবল বাতাসের তোড়ে তখন পিচের উপর আবরণ রাখাই দায়। এরপরই নামে প্রবল বৃষ্টি। নিভে যায় ফ্লাডলাইটের আলো— প্রচণ্ড ঝড়ে স্টেডিয়ামের বড় পর্দাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা ও ২ বারের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। একমাত্র ভারতের কাছে প্রথম ম্যাচ ছাড়া সবগুলোতে জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে মাশরাফিবাহিনী।
এদিকে, সবগুলো ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছে ফেবারিটের তকমা গায়ে চাপিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া ভারত। ধোনি, নেহরাদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ভিরাট কোহলি ও যুবরাজ সিংরা আছেন দারুণ ফর্মে। বল হাতে আগুন ঝড়াচ্ছেন বুমরাহ- পান্ডিয়ারা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে এক্সপেরিমেন্ট করলেও ফাইনালে পূর্ণশক্তির দল নিয়েই মাঠে নামছে ভারত।
বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাশরাফি মর্তুজা, নাসির হোসেন, আল আমিন, আবু হায়দার রনি ও তাসকিন আহমেদ।
ভারত দল: রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিং ধোনি, সুরেশ রায়না, যুবরাজ সিং, হার্দিক পান্ডে, রবীন্দ্র জাদেজা, জাসপ্রিত বুমরাহ ও আশীষ নেহরা।