স্নায়ুক্ষয়ী ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচ শেষ ওভারে জিতে গেল ক্যারিবীয়ানরা। ইংল্যান্ডকে চার উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
একই দিনে নারী ও পুরুষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে গড়লো ইতিহাস। এর আগে এ বছরই তাদের অনুর্ধ-১৯ দলও জিতেছে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের ট্রেবল জিতে বিশ্ব ক্রিকেটে এখন ক্যালিপসো সুরের জয়জয়কার।
ক্যালিপসোর সুরেই অবশেষে রোববার নেচে উঠলো কোলকাতার ইডেন গার্ডেন্স। ইংলিশদের দাপট পাত্তা পেলনা ক্যারিবীয়ানদের সামনে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের কোন্দল, মাঠের বাইরের সমালোচনা, সবকিছু ছাপিয়ে আগামী চারবছরের জন্য টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
টানা ছয় ম্যাচে টস জেতা ড্যারেন স্যামি এ ম্যাচেও টস জিতে নিয়েছেন ফিল্ডিং।
টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে ইডেন গার্ডেন্সকে ব্যাটিং স্বর্গ বানানো পিচ কিউরেটর এ ম্যাচে দুই দলকে উপহার দিয়েছেন স্পোর্টিং উইকেট। আর সেই পিচে লেগ স্পিনার স্যামুয়েল বদ্রি প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই বোল্ড করেন জেসন রয়কে। আন্দ্রে রাসেলের পরের ওভারেই অ্যালেক্স হেইলস আউট হন শর্ট থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে।
ইংল্যান্ড ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়েছে জো রুটের ৫৪ রানে ভর করে। বাকিরা হেঁটেছেন ড্রেসিংরুমের পথে।
টেল এন্ডে ডেভিড উইলির ১৪ বলে ২১ রানের ইনিংসে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৫৬ রানের টার্গেট দেয় ইংল্যান্ড।
ক্যারিবীয়ান ইনিংসের শুরুতেই বিস্ফোরক গেইল ও অন্য ওপেনার জনসন চার্লসের উইকেট তুলে নেয় ইংল্যান্ড। এবারের ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির পাওয়ার প্লের ৬ ওভারের মধ্যে টপ অর্ডারের ৩ উইকেট হারানো দলগুলো ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই ম্যাচ হেরেছে। এ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড দুই দলেরই হয়েছিল সে দশা। তবে ইংল্যান্ডের জো রুটের মতোই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে একাই খেলে যান মারলন স্যামুয়েলস।
মাঝে কট বিহাইন্ড হয়েছেন মনে করে ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটেন তিনি। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে আউট হননি দেখে আম্পায়াররা ফিরিয়ে আনেন তাকে। আর এরপর তিনি খেলেছেন ৮৫ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় শিরোপা এনে দিয়েছেন ব্র্যাথওয়েইট। শেষ ওভারে দরকার ছিলো ১৯ রান। পরপর চার বলে চারটি ছক্কায় ব্যাথওয়েইট হয়ে যান জয়ের নায়ক।
ক্রিকেটে এ বছরটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের। যেন ভিভ রিচার্ডস-কোর্টনি ওয়ালশদের সোনালী প্রজন্ম ফিরে এলো বর্তমান প্রজন্মের ক্যারিবীয়ানদের মাধ্যমে। বছরের শুরুতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনুর্ধ্ব ১৯ দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল যুব বিশ্বকাপের।
আর ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির সমাপনী দিনে মাত্র ঘণ্টা কয়েকের ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দল ও তাদের নারী দল। ঠিক তখনই, যখন অস্ট্রেলীয়া-ভারত নিয়ে মাতামাতিতে অনেকেই তাচ্ছিল্য করতে শুরু করেছিল ক্রিকেটের এক সময়কার পরাশক্তিকে।