আবেগ-উত্তেজনা খুব বেশি ছুঁয়ে যায় না তাকে— সাফল্য ও ব্যর্থতার পরও ভাবলেশহীন মুস্তাফিজুর রহমান। মুখে কথার ফুল ফুটে না বাহাতি পেসারের বরং নিজের কাজটা নীরবে করে যেতেই বেশি পছন্দ। সেই মুস্তাফিজই প্রথমবারের মতো আইপিএল খেলতে যাওয়ার আগে উচ্ছ্বাস আর রোমাঞ্চ লুকাতে পারেননি।
তবে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে এক দলে খেলতে না পারার আক্ষেপও ছিল। জাতীয় দলের সতীর্থকে শত্রু শিবিরে দেখতে কার-ই বা ভালো লাগে? ভালো না লাগলেও কলকাতা নাইট রাইডার্সের সাকিব আর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মুস্তাফিজ এখন মাঠে একে অন্যের শত্রু।
এখন যেন সেটা একটু বেশিই, আজ যে তাদের আসরে টিকে থাকার লড়াই।
কলকাতা নাইট রাইডার্স অনেকটা সময় ছিল পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। তবে পা পিছলে প্লে-অফ থেকে ছিটকে যেতে বসেছিল দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। শেষতক বাঁচা-মড়ার লড়াইয়ে মুস্তাফিজের হায়দরাবাদকে হারিয়ে সেরা চারে থাকা নিশ্চিত করেছে তারা।
এক পর্যায়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা হায়দরাবাদ শেষ চার নিশ্চিত করেছিল আগেই, তবে কলকাতার কাছে হেরে সেরা দুই থেকে ছিটকে গেছে তারা। এ কারণেই আজ ‘এলিমিনেটর’ ম্যাচে আবার মুখোমুখি কলকাতা-হায়দরাবাদ মুখোমুখি সাকিব আর মুস্তাফিজও। যার দল জিতবে তারা টিকে থাকবে ফাইনালের দৌড়ে আর হেরে গেলে নিশ্চিত বিদায়।
নিশ্চিত করেই এবারের আইপিএল শেষ হয়ে যাবে বাংলাদেশের দুই তারকা ক্রিকেটারের একজনের। সেই জন কে- সাকিব, না মুস্তাফিজ? উত্তরটা জানতে চোখ রাখতে হবে দিলি্লর ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে। ওই মাঠেই এবারের আইপিএলে শেষবারের মতো মুখোমুখি হবেন সাকিব-মুস্তাফিজ।
এবারের আইপিএলে প্রথম দেখায় মুস্তাফিজের বল খেলতে হয়নি সাকিবকে। তবে শেষ দেখায় মুস্তাফিজের ৫টি বল খেলেছেন সাকিব, রান নিয়েছেন ৩টি।
এবারের আইপিএলটা খুব ভালো কাটেনি সাকিবের। ব্যাটে-বলে ছন্দহীন থাকায় কলকাতার একাদশেও নিয়মিত ছিলেন না বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার। তবে শুরুর ব্যর্থতা শেষের দিকে এসে কিছুটা ঢেকে দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। ১০ ম্যাচ খেলে রান করেছেন ১১৪, উইকেট ৫টি।
এদিকে, আসরের শুরু থেকেই আলোচিত নাম মুস্তাফিজ। হায়দরাবাদের একাদশে নিয়মিত মুখ ছিলেন এই বাঁহাতি। ম্যাচের পর ম্যাচ দুর্দান্ত বোলিং করে গেছেন তিনি। ১৪ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে এবারের আইপিএলের চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার বাংলাদেশের এ পেস বিস্ময়।