বিশ্বের নানা প্রান্তের ভক্ত-অনুরাগী ও বিশ্বনেতাদের শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় সিক্ত হয়ে চিরশয্যায় শায়িত হলেন কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মদ আলী। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের লুইভিলে সমাহিত করা হয়েছে তাকে। এর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটলো এক মহাকাব্যিক জীবনের।
মৃত্যুর পর কোথায় তাকে সমহিত করা হবে তা আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন মোহাম্মদ আলী। কেন্টাকির লুইভিলের যে কবরস্থানে আলীকে সমাহিত করা হয়েছে তা শতাব্দী প্রাচীন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর জীববৈচিত্র্যের অনন্য স্বমন্বয়ে তৈরি হওয়া নিরিবিলি সমাধিস্থলের এই অংশটি শেষ ঘুমের জন্য অনেক আগেই বেছে নেন তিনি। সেখানেই পুরোপুরি মুসলিম রীতি-নীতি মেনে সমাহিত হলেন দা পিপলস চ্যাম্পিয়ন।
শেষকৃত্যানুষ্ঠানের একেবারে শেষের এই অংশে আলীর সঙ্গী ছিলেন শুধুমাত্র পরিবারের সদস্য ও কাছের বন্ধুরা।
তবে তার আগেই তাকে শ্রদ্ধা জানাতে ঢল নেমেছিল ভক্তদের। যে ছেলেটির কখনও সৌভাগ্য হয়নি আলীকে বক্সিং রিংয়ে খেলতে দেখার, শেষ বিদায়ে সেও ছিল আলীর কফিন বহনকারী গাড়ীর পাশে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় শেষকৃত্যানুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। আলীর কফিন বহন করেন অভিনেতা উইল স্মিথ, বক্সার মাইক টাইসনের মতো তারকারা।
আলীর কফিন নিয়ে লুইভিলে তাঁর বাড়ি থেকে, আলী সেন্টার ও সবশেষে মোহাম্মদ আলী বুলেভার্ড ঘুরে শোকযাত্রা পৌঁছায় লুইভিলের কেএফসি ইয়াম সেন্টারে। সেখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, কমেডিয়ান বিলি ক্রিস্টাল, ক্রীড়া সাংবাদিক ব্রায়ান্ট গাম্বেলের মতো বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে চির বিদায় দেয়া হয় আলীকে। স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন না প্রেসিডেন্ট ওবামা।
তবে ভিডিও বার্তায় তিনিও স্মরণ করেছেন আলী দা গ্রেটকে।
এরপর স্থানীয় সময় বিকেলে কেভহিল সমাধিস্থলে সমাহিত করা হয় সর্বকালের অন্যতম সেরা অ্যাথলেটকে। ৩ জুন অ্যারিজোনার স্কটসডেইল মেডিকেল সেন্টারে ৭৪ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন মোহাম্মদ আলী।
নিপীড়িত জনগণের জন্য সোচ্চার মনবতাবাদী মোহাম্মদ আলী জীবদ্দাশায় যেমন কাঁপিয়েছিলেন পৃথিবীকে, তেমনিভাবেই তার মহাকাব্যিক জীবনের অবসান কাঁদিয়েছে গোটা বিশ্বকে।