এবারের রিও অলিম্পিকে অংশ নেয়া দেশগুলো ছাড়াও শরণার্থীদের নিয়েও একটি দল গড়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি। আইওসির এমন সিদ্ধান্তে জীবনের মোড় পাল্টে গেছে সিরিয়া থেকে জার্মানির বার্লিনে আশ্রয় নেয়া ইয়ুসরা মালদিনির। শরণার্থী দলের হয়ে ৮ আগস্ট অলিম্পিকের লড়াইয়ে নামবেন তিনি। প্রাণ বাঁচাতে সাতরে সাগড় পাড়ি দিয়েছিলেন মালদিনি। আর এবার অলিম্পিকের মেগা ইভেন্টে স্বপ্ন থেকে হাত ছোয়া দূরত্বে ১৭ বছরের এ কিশোরী।
বলা হয় মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়। স্বপ্ন মানুষকে জোগায় অনুপ্রেরণা দেয় বেঁচে থাকার আশা। আর সে স্বপ্নকে সফল করার পেছনে থাকে অনন্য বিস্ময়কর কিছু গল্প। ইয়ুসুরা মারদিনির গল্পটাও তেমনই।
যুদ্ধে বিধ্বস্ত হওয়ার আগে সিরিয়ায় পরিবারের সঙ্গে বেশ শান্তিতে ছিলেন মারদিনি। সাতার প্রশিক্ষক বাবার কাছ থেকেই হয়েছিল পানির সঙ্গে সখ্যতা। জিমন্যাস্টিকেও বেশ আগ্রহ ছিল তার। স্বপ্ন দেখতেন সিরিয়ার হয়ে একসময় অলিম্পিকে অংশ নেয়ার।
তবে মর্টার-শেল আর গুলির আঘাতে সাজানো-গোছানো সিরিয়ার মতোই ভেঙে যায় মারদিনির স্বপ্ন। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে শরণার্থী হিসেবে নৌকায় ওঠেন। লক্ষ্য এজেন সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের কোনো এক দেশে পৌঁছানো।
মাঝ সাগরেই নৌকাটি বিকল হয়ে গেলে নেমে পড়েন সাগরে। সাঁতরে পাড়ি দেন বাকি পথটুকু। তবে একা নিজের জীবন বাঁচাননি তিনি। সাঁতারে দক্ষ বাবা ও বোনের সহযোগিতায় বাঁচিয়েছিলেন নৌকার প্রায় ২০ শরণার্থীর প্রাণ।
নানা পথ ঘুরে অবশেষে এসে পৌঁছান বার্লিনে। আশ্রয় শিবিরে জায়গা পেয়েই শুরু করে দেন সাঁতারের প্রশিক্ষণ। মারদিনি ও তার বোনের টেকনিকে মুগ্ধ হয়ে ২০২০ টোকিও অলিম্পিকের জন্য তাদেরকে প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নেন বার্লিনের অন্যতম পুরনো সাঁতার ক্লাবের কোচ স্প্যানারক্রেবস।
তবে শরণার্থীদের নিয়ে তৈরি একটি দল অংশ নিতে পারবে এবারের রিও অলিম্পিকে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিকের এমন সিদ্ধান্তে জীবনের মোড় পাল্টে গেছে মালদিনির। মেয়েদের ২০০ মিটার ফ্রি স্টাইলে ৮ আগস্ট অলিম্পিক পুলে নামবেন তিনি।
মালদিনির মতে পানিতে নামলে উপরের দুনিয়ার সব ধ্বংসলীলার কথা ভুলে যান তিনি। দেশ ছেড়ে হাজার মাইল দূরে হলেও রিও অলিম্পিকের পুলে আবারও হয়তো শান্তি খুঁজে পাবেন ১৭ বছর বয়সী এ বিস্ময়বালিকা।