ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশের অনুর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল দল। শেষ ম্যাচে আরব আমিরাতকে ৪-০ গোলে হারিয়ে বাছাইপর্বে অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা উঠেছে এশীয় চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে।
এটি বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের সেরা সাফল্য। এশীয় ফুটবলের কোন স্তরের মূল পর্বে এই প্রথম বাংলাদেশের কোন দল খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো।
আবারও বাধবাঙ্গা উল্লাস বাংলাদেশের নারীদের। শেষ ম্যাচ জিতে অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই চূড়ান্তপর্বে উঠলো বাংলাদেশের ক্ষুদে বাঘিনীরা। দেশের ফুটবলের ইতিহাসে সেরা সাফল্য এটি। বাছাইপর্বে পেরিয়ে এবারই বাংলাদেশের কোন দল প্রথমবারের মতো এশীয় চ্যাম্পিয়নশিপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো।
এএফসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচেও বাংলাদেশ ছিল অপ্রতিরোধ্য। প্রথমার্ধে এক আর দ্বিতীয়ার্ধে আরো ৩ গোল করে তারা ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করলো সংযুক্ত আরব আমিরাতকে।
বাংলাদেশ অনূর্ধ-১৬ নারীদের ইতিহাস গড়ার সূচনা হয়েছিল ইরানের মত শক্তিশালী দলকে হারিয়ে। সেই ম্যাচে প্রথমার্ধে গোল করতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে ৩ বার ইরানের জালে বল পাঠিয়ে আত্মবিশ্বাসীসূচনা করেছিল বাংলাদেশের নারীরা।
দ্বিতীয় ম্যাচেরও আরো দুরন্ত পারফরমেন্স ছিল জুনিয়র টাইগ্রেসদের। এবার প্রথম ম্যাচ থেকে আরও দুই গোল বেশি ব্যাবধানে এ ম্যাচে জয় পায় আনুচিং-কৃষ্ণারা। সিঙ্গাপুরকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ।
কিরগিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচটিকে স্বরণীয় করে রাখল বাংলাদেশ। কৃষ্ণা-মারজিয়া ও আনুচিংদের অনবদ্য পারফরম্যান্সে কিরগিজস্তানকে ১০-০ গোলে বিদ্ধস্ত করল জুনিয়র টাইগ্রেসরা।
প্রথম ৩ ম্যাচে একবারও বাংলাদেশের জাল বল প্রবেশ না করলেও চতুর্থ ম্যাচে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ২ গোল হজম করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। কিন্তু তারপরও তাইপের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় নিয়ে আসরে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছিল গোলাম রাব্বানির শিষ্যরা।
এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চায়না, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ও বাংলাদেশ পেয়ে গেছে চূড়ান্ত পর্বে খেলা টিকেট। আর দুই গ্রুপ থেকে দুটি দেশ অংশ নিলে, ৮টি দেশ নিয়ে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চীনে বসবে এএফসি অনুর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের মূল পর্বের সপ্তম আসর।