চট্টগ্রামে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫০ ওভারে বাংলাদেশ ৬ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ২৭৭। মুশফিক ৬২ বলে ৬৭ আর মোসাদ্দেক ৩৯ বলে ৩৮ করে অপরাজিত থাকেন। চট্টগ্রামের এ মাঠে এত রান তাড়া করে আর কোনো দল জিততে পারেনি।
৪৬ রানে জীবন পান মুশফিকুর রহীম— এরপরের বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের প্রথম ফিফটি করেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিক, ৫২ বলে ৫১। ৪৮ ওভারে বাংলাদেশ ২৫২/৬। ৪৫ ওভারে ছিল বাংলাদেশের স্কোর ২২৭/৬। মুশফিক ৪৭ বলে ৩৬ আর মোসাদ্দেক।
মুশফিক সর্বশেষ গত বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঝ্চুরি করেন। এরপর ৭ ইনিংসে সর্বোচ্চ ছিল আফগানদের বিপক্ষে তৃতীয় খেলায় ৩৮। ই্ংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে করেন ১২ আর ২১। সেঞ্চুরি বাদ দিলে ২১ ইনিংস পর ফিফটি।
এর আগে শেষের দিকে এসে ছন্দ পতন হয় বাংলাদেশ ইনিংসের। ১৬ রানের ব্যবধানে তিন উইকেটের পতন। আদিল রশিদের নবম ওভারের প্রথম বলে ফুলটস বল হাঁকাতে গিয়ে আউট হয়ে গেলেন নাসির। তিনিও ১০ বল খেলে করেন ৪ রান। ১০ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে এ লেগ স্পিনার নেন চার উইকেট।
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেও তিনি ৪ উইকেট নেন। তিন খেলায় নিলেন ১০ উইকেট। ৩৯ ওভার শেষে বাংলাদেশ ১৯৬/৬।
এর আগে সাকিব চলে গেলেন কিছু করার আগেই। ১০ রানে চার করে মঈন আলীর বলে স্টাম্পড। স্পিনেই ঘায়েল হচ্ছে বাংলাদেশ। স্টোকসের পর তিন উইকেট নিলেন রশিদ আর একটি মঈন আলী।
ভালই খেলছিলেন সাব্বির রহমান— মুশফিকের সঙ্গে রানের গতি বাড়িয়ে যাচ্ছিলেন। ৫০ রানের জুটিও গড়েন তবে মাত্র ১ রানের জন্য তিনিও মিস করলেন ফিফটি। ৪৯ রান করে তিনি আদিল রশিদের তৃতীয় শিকার। এটিও তার ওভারের পঞ্চম বল।
৩৭ ওয়ানডেতে এটি রশিদের ৫০তম উইকেট আর ২৯ ওয়ানডেতে ২৫ বার ব্যাট করে ৪০ থেকে ৪৯এ ছয়বার আউট হলেন তিন ফিফটির মালিক সাব্বির। বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৭৬/৪।
৩০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫৮/৩— সাব্বির ৩৪ আর মুশফিক ১৩ রানে ব্যাট করছিলেন। ছক্কা দেয়ার বিস্ময় না কাটতেই পরের বলে তুলে নিলেন মাহমুদুল্লাহর উইকেট— এটিও ওভারের পঞ্চম বলে।
আদিল রশিদ ২ ওভারে ৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নিলেন। ২৫ ওভার শেষে দলের রান ১২২/৩। ৭ বলে ৬ রানই তোলেন আগের খেলায় ৭৫ করা মাহমুদুল্লাহ। ২৩ ওভারে আদিল রশিদকে এনেই সফলতা পেলো ইংল্যান্ড। ৪৫ রান করে আউট তামিম।
আর বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০৬/২— সাব্বিরের পাশে আসেন মাহমুদুল্লাহ। ২১ ওভার শেষে ৩৭ রান করে ওয়ানডেতে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ৫০০০ রান পুরো করতে চাই ১ রান। পরের ওভারে ওকসের বলে চার মেরে লক্ষ্যে পৌছে যান চট্টগ্রামের ছেলে তামিম। ৬৮ বলের ইনিংসে মাত্র পাঁচটি চার মারেন তিনি।
মাত্র চার রানের জন্য হাফ সেঞ্চুরি করতে পারলেন না ইমরুল কায়েস। ৫৮ বলে ৪৬ রান করে বেন স্টোকসের শিকার হন এ ওপেনার। ১৯ ওভার শেষে দলের রান তখন ৮০। ২০ ওভার শেষে বাংণাদেতশ ৮৬/১। তামিমের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সাব্বির।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে এবার শুরুটা বেশ দারুণ হয়েছে। মাত্র ১৪ ওভারে তামিম ইমরুল জুটি তুলেছে ৬০ রান।
তামিম শুরুটা ধীরে করলেও ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছেন— ইমরুল ৩৬ আর তামিম ২৫ রানে ব্যাট করছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের সেরা ওপেনিং জুটি।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বৃষ্টির শঙ্কা কাটিয়ে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ। টানা তৃতীয় খেলায় টসে হেরেছে বাংলাদেশ।
সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে অপরিবর্তিত রয়েছে বাংলাদেশ স্কোয়াড। ইংল্যান্ড উইলির পরিবর্তে খেলাচ্ছে লিয়াম প্লাঙ্কেটকে।
গত দুই দিনের টানা বৃষ্টির পর আজ সকাল থেকেও বৃষ্টি থাকায় ম্যাচ শুরু নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। দুপুরে বৃষ্টি থামায় উইকেট উন্মুক্ত করা হয়। আম্পায়াররা মাঠ পরিদর্শন করে নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেন।করেন।
ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলীর আশা, দ্বিতীয় ওয়ানডের ঘটনাগুলো উত্তাপ ছড়ালেও দুই দলই শেষ ম্যাচে ভালো আচরণ করবে।
এদিকে, টানা বৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রামে— বৃষ্টির বাগড়ায় শেষ ওয়ানডের আগের দিনও মাঠে অনুশীলন করতে পারেননি ক্রিকেটাররা।