দুর্দান্ত জয়ে সিরিজ শুরু করলো বাংলাদেশ— ব্যাট-বলের দারুণ নৈপুণ্যে ডাম্বুলায় তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে ৯০ রানে হারিয়েছে টাইগাররা। তামিমের সেঞ্চুরি আর সাব্বির ও সাকিবের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে লঙ্কানদের রানের বন্যায় ভাসিয়ে, প্রথম ওয়ানডেতে ৩২৪ রান করে সফরকারীরা।
প্রথমে ব্যাট করে লঙ্কার বিপক্ষে এটি টাইগারদের সবচেয়ে বড় স্কোর। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাশরাফি-তাসকিন-মুস্তাফিজদের বোলিং তোপে, ব্যাটিং বিপর্যয়ে পরা লঙ্কানরা ২৯ বল বাকী থাকতেই গুটিয়ে যায় ২৩৪ রানে। ম্যাচ সেরা হয়েছেন তামিম ইকবাল।
ডাম্বুলার মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বোচ্চ সংগ্রহ ২৮৮ রান যা ২০০৯ সালে করেছিলো পাকিস্তান। আট বছর পর সেই রেকর্ড ভাঙ্গল বাংলাদেশ। তামিমের সেঞ্চুরির পর সাকিব-সাব্বিরের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩২৪ রান।
ইনিংসের শুরু থেকেই তামিম-সৌম্য'র ২৯ রানের জুটিতে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান উঠে। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে ২ রান করে, ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তামিম।
সৌম্য বিদায়ের পর দ্বিতীয় উইকেটে তামিমের সঙ্গে ৯০ রানের জুটি গড়েন সাব্বির রহমান। দ্রুত রান তোলে সাব্বির, করেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে হাফ সেঞ্চুরি।
ব্যক্তিগত ৫৪ রানে সাব্বির ফেরার একরান পরেই মুশফিকের বিদায়ে কিছুটা চাপে সফরকারীরা। তবে এরপর তামিমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাকিব সচল রাখেন রানের চাকা। দীর্ঘ একবছর পর তামিমের ব্যাট থেকে আসে শতরানের ইনিংস। ক্যারিয়ারের অস্টম সেঞ্চুরি হাঁকান তামিম।
অন্যপ্রান্তে ক্যারিয়ারের ৩৩তম হাফসেঞ্চুরি তুলে ব্যক্তিগত ৭২ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ভাঙ্গে তামিমের সঙ্গে গড়া ১৪৪ রানের জুটি। শেষদিকে মোসাদ্দেকের অপরাজিত ২৪ রানে লঙ্কানদের বিপক্ষে ৩২৪ রান করে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে লংকার বিপক্ষে এটি টাইগারদের সবচেয়ে বড় স্কোর।
রানের পাহাড় তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোচট খায় শ্রীলঙ্কা। মাশরাফির প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই সাজঘরে গুনাথিলাকা। এরপর মিরাজ আর তাসকিনের বোলিংয়ে ৩১ রানে তিন উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
চতুর্থ উইকেটে গুণারত্মে-চান্দিমালের ৫৬ রানের পার্টনারশীপে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করলেও গুণারত্নকে সাজঘরে ফিরিয়ে সাকিবের ভাঙ্গে এ জুটি। এরপর চান্দিমাল-সিরিওয়ারদানা'র দ্রুত বিদায়ে জয়টা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের জন্য। শেষ পর্যন্ত ২৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় লংকান ইনিংস। মুস্তাফিজ ৩টি, মিরাজ ও মাশরাফি ২টি করে উইকেট নেন। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ ২৮ মার্চ ডাম্বুলাতেই।