পাকিস্তান-ভারত লড়াই মানেই যুদ্ধের দামামা— লন্ডনের কেনিংটন ওভালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। মাঠে ২২ জনের লড়াই। বিশ্বব্যাপী কয়েক শত কোটি দর্শক চোখ রাখছেন হাইভোল্টেজ ম্যাচটি। আগুনে লড়াইয়ে টসভাগ্যে জয়লাভ করেছেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। অনুমিতভাবেই টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন।
শিরোপার লড়াইয়ে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছে ভারত। তার মানে হলো উমেশ যাদবকে বেঞ্চেই সময় কাটাতে হচ্ছে। স্পিন অ্যাটাকে রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা রয়েছেন। পেস অ্যাটাকে ভুবনেশ্বর কুমার ও জসপ্রিত বুমরাহকে সাপোর্ট দেবেন হার্দিক পান্ডিয়া।
গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দেয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যায় ভারত। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জিতেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় টিম ইন্ডিয়া। সেমিতে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে উন্নীত হয় বিরাট কোহলির দল।
এদিকে ভারতের কাছে হারের ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করে পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় টিম পাকিস্তান। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বোলারদের দৃঢ়তায় স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে সফরাজ আহমেদের দল।
বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট বলেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতকে এগিয়ে রাখতেই হয়। দুই দলের মুখোমুখি সাক্ষাতে পাকিস্তান ৭২-৫২ ব্যবধানে এগিয়ে। কিন্তু আইসিসির ইভেন্টে সর্বশেষ ১০ বারের সাক্ষাতে ভারত ৮-২ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। অবশ্য হিসাবটা যদি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসরকে নিয়ে করা হয় তবে ২-২ এ সমতা বিরাজ করছে। এটিই ভরসা জোগাতে পারে টিম পাকিস্তানকে।
কিন্তু ভরসা পাচ্ছে কোথায় পাকিস্তান! চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ১২৪ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছিল ভারত। যেটি এখন পর্যন্ত চলতি টু্র্নামেন্টের সবচেয়ে একপেশে ম্যাচ। অবশ্য সেই ম্যাচের পর দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডকে টানা তিন ম্যাচে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা পাকিস্তান আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়েই মাঠে নামবে।
হাইভোল্টেজ ম্যাচটিতে দুই দলের খেলোয়াড়দের মানসিক পরীক্ষাও হয়ে যাবে। বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি দর্শকের চাপ থাকবে কোহলি-সরফরাজদের ওপর। সেই চাপকে যারা জয় করতে পারবে তারাই হাসবে বিজয়ীর হাসি।
ভারতীয় একাদশ: রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং, এমএস ধোনি, কেদার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার ও জসপ্রিত বুমরাহ।
পাকিস্তান একাদশ: আজহার আলি, ফখর জামান, বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, সরফরাজ আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ আমির, শাদাব খান, হাসান আলি ও জুনায়েদ খান। (সূত্র: সমকাল)