অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশের ক্রিকেট কাণ্ডারী মাশরাফি, মুশফিক, সাকিব, তামিম, মাহমুদউল্লাহর মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররা।
জাতীয় দলের ভেতরে ও বাইরে জুনিয়রদের জন্য অনুকরণীয় তারা। ভবিষ্যতেও যাতে টিম-লাইনআপে তাদের মতো ক্রিকেটারের অভাব না হয় সেজন্য বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলের সঙ্গে উদীয়মান ক্রিকেটারদের নিয়ে বিসিবি তৈরি করেছে হাইপারফরম্যান্স ইউনিট।
এর প্রধান কোচ সায়মন হ্যালমুট বলেন, জাতীয় দলের যে কোনো প্রয়োজনে প্রস্তুত আছে তার ইউনিট।
হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের প্রধান কোচ সায়মন হ্যালমুট বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় দল সারাবছর টেস্ট, টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে খেলে। যে কোনো সময় যে কোনো খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়তে পারেন। এছাড়াও জাতীয় দলের যে কোনো প্রয়োজনে যেন বিকল্প খেলোয়াড় পাওয়া যায় সে কথা মাথায় রেখেই হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের ক্রিকেটারদের পরিচর্যা করা হচ্ছে।
এতে যেমন, ঘরোয়া লিগে পারফর্ম করা উঠতি ক্রিকেটাররা আছেন, তেমনি আছেন এনামুল হক বিজয়, লিটন দাস ও আবুল হাসান রাজুদের মতো জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররাও।
তিনি আরো বলেন, জাতীয় দলের জন্য প্রয়োজন হতে পারে এমন সব ধরনের ক্রিকেটার আছে হাই পারফরম্যান্স ইউনিটে। ভালো পেসার, স্পিনার ও ব্যাটসম্যান, এমনকি জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ক্রিকেটাররাও আছে এখানে।
মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ। দীর্ঘদিন ধরেই এক সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলছেন এ পাঁচজন।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের নানা চড়াই উৎড়াইয়েরও সাক্ষী তারা।
গত ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হংকংয়ের কাছে হার, ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ২ রানের হারের আক্ষেপ। কিংবা আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে খেলা। এসবই খুব কাছ থেকে দেখেছেন এই সিনিয়র ক্রিকেটাররা।
মাহমুদুল্লাহ ছাড়া বাকি সবাই ১৭০টিরও বেশি ওয়ানডে খেলেছেন জাতীয় দলের হয়ে। দলের বিপদের মুহূর্তে যেমন কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করেন তেমনিভাবে খেলার বাইরেও উঠতি তরুণ ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা জোগান তারা। তাই বলতেই হয় এই সিনিয়র ক্রিকেটারদের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল বাংলাদেশের ক্রিকেট।
কিছুদিন আগে হঠাৎ করেই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। হয়তো ওয়ানডেতেও আর খুব বেশিদিন দেখা যাবে না তাকে।
দলের অন্য সিনিয়র খেলোয়াড়রা অবসর নিলে বা ইনজুরিতে পড়লে যাতে বিপদে পড়তে না হয়—এসব কথা মাথায় রেখেই বয়সভিত্তিক দলগুলো নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ এর পাশাপাশি জাতীয় দলের পাইপলাইন সমৃদ্ধ করতে তৈরি করা হয়েছে হাই পারফরম্যান্স ইউনিট।
বিদেশি কোচের মাধ্যমে অনুশীলনসহ জাতীয় দলে খেলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরণের ব্যবস্থা নিয়েছে বিসিবি।
আগামী ২০১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তৈরি করা হচ্ছে এসব ক্রিকেটারদের। তাই, আগামী এক বছরে দেশে ও দেশের বাইরে হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের জন্য অন্তত আটটি সিরিজ খেলার ব্যবস্থা করছে বিসিবি। এর অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় ও ইংল্যান্ডে সফর রয়েছে হাইপারফরমেন্স ইউনিটের।