বাংলাদেশের এক অনন্য জয়ের নায়ক হলেন সাকিব আল হাসান। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও পাঁচ উইকেট শিকার করে রচনা করেছেন দেশের ক্রিকেটের এক নতুন অধ্যায়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের পর এবার শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে বধ করার মঞ্চও তারই তৈরি। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টেস্টে ন্যূনতম ১০ উইকেট শিকার করেছেন এ অলরাউন্ডার।
বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে দুই ম্যাচে ন্যূনতম ১০ উইকেট নেওয়া প্রথম বোলারও তিনি। ১০ উইকেট ও ফিফটির সুবাদে প্রত্যাশিতভাবেই জয়ের নায়ক সাকিব পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কারও।
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে লাইফ পেয়ে বড় জুটি গড়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ। বাংলাদেশের মুঠো থেকে ম্যাচ অনেকটাই নিজেদের আয়ত্ত্বে নিয়ে এসেছিলেন এই দুজন। চতুর্থ দিন সকালেও স্মিথ-ওয়ার্নারদের সাবলীল ব্যাটিং চোখ রাঙ্গাচ্ছিলো বাংলাদেশকে।
ঠিক এসময়ই, ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সেঞ্চুরি করা ডেভিড ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন সাকিব।
ওয়ার্নার ফিরলেও ভয় তখনো কাটেনি বাংলাদেশের জন্য। কারণ অন্য প্রান্তে টিকে ছিলেন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্মিথকেও নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করে টাইগার শিবিরে স্বস্তি এনে দেন সাকিব। সকালের সেশনে তার জোড়া আঘাতেই খেলায় ফেরে টাইগাররা।
লাঞ্চ শেষে প্রথম বলেই সাকিব আরেক বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে বিদায় করে দেন এরপর ম্যাথিউ ওয়েডকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে বাংলাদেশের জয়ের পথ সুগম করে দেন এই সুপারস্টার।
প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নেন ৫ উইকেট। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টেস্টে ন্যূনতম ১০ উইকেট শিকার করলেন এই অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে দুই ম্যাচে ন্যূনতম ১০ উইকেট নেওয়া প্রথম বোলারও তিনি। এর আগে ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে ১০ উইকেট নিজের ঝুলিতে পুরেছিলেন সাকিব।
১০ উইকেট ও ফিফটির সুবাদে প্রত্যাশিতভাবেই জয়ের নায়ক সাকিবই পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। বাংলাদেশ দলের ওপর দর্শকদের আস্থার কতারণেই এ জয় অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন সাকিব।