চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাটিং কি তা রীতিমতো উদাহরণ দিয়ে শেখাচ্ছেন অস্ট্রেলীয় টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানরা।
স্মিথের আউটের পর বাংলাদেশের স্বস্তির মাত্রাটা আর বাড়তে দেননি হ্যান্ডসকম্ব আর ওয়ার্নার। এই দুই জনের শত রানের জুটিতে ভর করেই দ্বিতীয় দিন ২ উইকেটে ২২৫ রানে শেষ করে সফরকারীরা।
দ্বিতীয় দিন শেষে ৮০ রানে অসিরা পিছিয়ে আছে। ওয়ার্নার অপরাজিত ৮৮ রানে আর হ্যান্ডসকম্ব ৬৯ রানে। এর আগে গতকালের দিনটা স্বস্তিতেই কাটিয়েছিল বাংলাদেশ। এমনকি দ্বিতীয় দিন প্রথম ইনিংসে ৩০৫ রানে গুটিয়ে গিয়ে পুঁজিটা ছিল সমৃদ্ধ।
প্রথম টেস্টে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান জ্বলে উঠতে না পারলেও চট্টগ্রাম টেস্টে বোলিংয়ে দেখান ঝলক। দ্বিতীয় ওভারেই তার বলে মুশফিককে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ওপেনার ম্যাট রেনশ— বিদায় নেন ৪ রানে।
মধ্যাহ্নভোজনের আগে সফলভাবেই বিরতিতে যান স্বাগতিকরা। অবশ্য পরে ফিরেই শুরুর ধাক্কা সামাল দেন ওপেনার স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। ধীরে প্রতিরোধ তৈরি করে ৯৩ রানের জুটি করে তারা।
এই জুটি চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেয় বাংলাদেশ শিবিরে। ২৯তম ওভারে সাকিবকে পাল্টে তাইজুলকে আক্রমণে আনলে সেই এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রু। একেবারে ওভারের প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। ৯৪ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। যেখানে ছিল ৮টি চার।
এরপরই আসল প্রতিরোধটা গড়ে তুলেন ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও হ্যান্ডসকম্ব। এ দুই জনের শতরানের জুটিতে, দুই বার ওয়ার্নারকে নতুন জীবন দেন মুমিনুল ও মুশফিক।
শেষ সেশনের শুরুতেই ওয়ার্নারের ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন মুমিনুল। ওয়ার্নারকে স্টাম্পিংয়ের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন মুশফিক।
মিরাজের করা ৫৭তম ওভারের প্রথম বলে ডাউন দ্য ট্র্যাকে এসে খেলতে চেয়েছিলেন অজি ওপেনার। তিনি পরাস্ত হলেও বল ধরতে ব্যর্থ হন মুশফিক। ফলে আরেকটি উইকেট থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।
টেস্টের তৃতীয় দিন এই দুটি 'ব্যর্থতা'র বড় মাশুলই হয়তো দিবে হবে মুশফিকদের। দিন শেষে ৮০ রানে পিছিয়ে থেকে খেলা শেষ করে অজিরা। ওয়ার্নার অপরাজিত ৮৮ রানে আর হ্যান্ডসকম্ব ৬৯ রানে।
এর আগে চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা দেখে শুনেই শুরু করে বাংলাদেশ। নাসির হোসেন ও মুশফিক এগিয়ে নিচ্ছিলেন বাংলাদেশের ইনিংস। অথচ দিনের ওভার শুরু করতে আসার পরই বাধে বিপত্তি। এক কথায় দুর্ভাগ্যই বলতে হবে মুশফিকের। পা বাড়িয়েছিলেন খেলতে। কিন্তু স্পিন করতে থাকা বল ব্যাটের কোনায় লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। বল পড়ে গেলে উল্লাসে মাতে অসিরা। মুশফিক বিদায় নেন ৬৮ রানে। ১৬৬ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার।
এরপর নাসির মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে লেজের দিকে গড়ছিলেন জুটি। সঙ্গে পুঁজিটাকেও ৩০০ রানের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছিলেন। এর আগে দলীয় ২৯৩ রানে নাসিরকে ম্যাথু ওয়েডের তালুবন্দী করান অ্যাস্টন অ্যাগার। নাসির ৯৭ বলে ৪৫ করে ফেরেন। ৫ রানের জন্য মিস করেন ফিফটি। যেখানে ছিল ৫টি চার। দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেও থিতু হতে পারলেন না বেশিক্ষণ। এরপর আবারও উইকেটের পতন।
রানের প্রান্ত বদল করতে গেলে ডেভিড ওয়ার্নার আগেই স্টাম্প ভেঙে দেন। ১১ রানে বিদায় নেন মিরাজ। এরপর ছয় মেরে স্কোর ৩০০ ছাড়া করেন তাইজুল। কিন্তু তাইজুলকে এরপরেই স্লিপে তালুবন্দী করান নাথান লিওন। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় ৩০৫ রানে। লিওন একাই ৯৪ রানে নিয়েছেন ৭ উইকেট। দুটি নেন অ্যাস্টন অ্যাগার।