অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের সাফল্যের পর স্বপ্ন ভাঙল বাংলাদেশ দলের।
প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ও খুব কঠিন কিছু মনে হচ্ছিল না। কিন্তু নিজেদের দোষেই সেই সুযোগ হাতছাড়া হলো বাংলাদেশ।
দিনের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার লিডটা ৭২-এ আটকে রেখে যে সান্ত্বনা বাংলাদেশ কুড়িয়েছিল তা যেন মুহূর্তেই শেষ করে তামিম-সৌম্যদের ব্যাটিংয়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। সেই ধাক্কা আর সামলেই উঠতে পারেনি।
মাত্র ১৫৭ রানে অলআউট হয় দ্বিতীয় ইনিংসে। অস্ট্রেলিয়াকে দিতে পেরেছে মাত্র ৮৬ রানের লক্ষ্য। ৪৮ রানে ৩ উইকেট ফেলে দিয়ে সাময়িক একটা উত্তেজনা তৈরি করে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ম্যাক্সওয়েলের ১৭ বলে ২৫ রানের ঝাপটায় অঘটনের ক্ষীণতম সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেল। ৭ উইকেটে জিতে সিরিজটাও ১-১ করে ফেলল অস্ট্রেলিয়া।
মোস্তাফিজ নিজের তৃতীয় আর ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ওয়ার্নারকে ফেরান। তাইজুল স্মিথকে আর সাকিব রেনশকে ফেরানোর পর গ্যালারিতে কিছুটা উত্তেজনার রেশ দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত ১৩ উইকেট নেয়া নাথান লায়নেরই জয় হলো। তার বোলিংয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে তাসের ঘর হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ।
দলীয় ১১ রানের মাথায় অফ স্টাম্পের ওপর বলে খোঁচা দিয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার। প্যাট কামিন্সের বলে স্লিপে সৌম্যর ক্যাচ নেন ম্যাট রেনশ।
৯ রানে সৌম্য ফেরার পর ইমরুল আর তামিম কখনোই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে পারেনি। ৩২ রানের সময় নাথান লায়নের বলে অযথা বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন তামিম। ইমরুল ৩৯ রানের মাথায় সেই লায়নের বলেই গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ক্যাচ দেন।
সৌম্য, তামিমের পর ফিরলেন ইমরুলও। ৪ নম্বরে নাসির হোসেনকে নামিয়ে দিয়ে একটা ‘ফাটকা’ খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার ফাটকা ব্যর্থ। স্টিভ ও’কিফির অফস্টাম্পের বাইরের একটি বলে খোঁচা দিয়ে আউট হন নাসির।
তবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধাক্কা ছিল সাকিব আল হাসানের ফিরে যাওয়া। লায়নের বলেই ওয়ার্নারকে ক্যাচ দিয়েছেন সাকিব। বাংলাদেশের বিপক্ষে এবারের সফরে মোট ১৯ উইকেট পান লায়ন।
মাত্র ৯৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা বাংলাদেশকে কিছুটা আলো দেখান মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক। ৩২ রানের জুটি গড়েছিলেন এ দুই ব্যাটসম্যান। কিন্তু প্যাট কামিন্সের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন অধিনায়ক মুশফিক (৩১)। এরপর মুমিনুলও এই টেস্টে লায়নের ১২তম শিকারে পরিণত হন কামিন্সকে ক্যাচ দিয়ে। চা বিরতির পর লায়ন তাইজুলকেও ফিরিয়েছেন। বাকি চারটি উইকেট সমান ভাগাভাগি করেছেন কামিন্স ও ও’কিফ।