দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়াই করার সুযোগ থাকার পর বাংলাদেশ থেমে গেল মাত্র ৯০ রানে ।
মুশফিকদের কাছ থেকে লড়াই আশা সমর্থকরা তবে লড়াইয়ের ছিঁটেফোটাও উপহার দিতে পারেনি তারা।
পচেফস্ট্রুম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে সফরকারীরা। সোমবার টেস্টের পঞ্চম ও শেষদিন বাংলাদেশকে ৩৩৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় প্রোটিয়ারা।
৪২৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ রোববার ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৯ রান সংগ্রহ করে।
টেস্টের শেষ দিন ব্যাটিংয়ে নেমে ৪০ মিনিটের ব্যবধানে আরো চার উইকেট হারিয়ে নিজেদের বড় পরাজয় বহন করে টাইগাররা শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯০ রানে গুটিয়ে ৩৩৩ রানের বড় হার হেরে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েস পার্কে প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেটে ৪৯৬ রান তোলে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শনিবার টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষ সেশনের শুরুতে ৩২০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ১৭৬ রানে লিড পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা রোববার ৬ উইকেটে ২৪৭ রান তোলে ইনিংস ঘোষণার পর বাংলাদেশের সামনে ৪২৩ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড়ায়। সেইলক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রোটিয়া বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ১০০ রানের আগেই গুটিয়ে যায় মুশফিকের দল।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন ইমরুল কায়েস। এছাড়া মুশফিক ১৬ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ১৫ রান। তামিম ইকবাল (০), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৯), লিটন দাস (৪), সাব্বির রহমান (৪) ও মুমিনুল হকের (০)।
দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কেশব মহারাজ চারটি এবং ক্যাগিসো রাবাদা নেন তিনটি উইকেট। এছাড়া মরনে মরকেল নেন দুটি উইকেট। শফিউল রান আউটের শিকার হন।
সকালের সেশনের শুরুতেই বাংলাদেশ শিবিরে হানা দেন রাবাদ। তার করা ইনিংসে ১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে দলীয় ৬২ রানের মাথায় হাশিম আমলাকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক। দলীয় ৬৭ রানের মাথায় মাহমুদউল্লাহকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে পাঠায় রাবাদা।
এক ওভার পর আক্রমণে এসে ফের বাংলাদেশ শিবিরে হানা দেন রাবাদা। এবার লিটন দাসকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন এ দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার। পরের ওভারে (২৫তম ওভারের দ্বিতীয় বল) সাব্বিরকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশের ম্যাচ বাঁচানোর স্বপ্ন শেষ করে দেন মহারাজ।
২৭তম ওভারে আক্রমণে এসে ফের বাংলাদেশ শিবিরকে ধাক্কা দেন মহারাজ। দলীয় ৭১ রানের মাথায় তাসকিন আহমেদকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন এই প্রোটিয়া স্পিনার। পরের ওভারে শফিউল রানআউট হয়ে ফিরলে বাংলাদেশের 'লজ্জাজনক' হার সময়ের ব্যাপারে পরিণত হয়। ছোট্ট প্রতিরোধের পর মোস্তাফিজের কট অ্যান্ড বোল্ড আউট করে দলকে বড় জয় এনে দেন মহারাজ।
প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার করা ৪৯৬ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩২০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের হয়ে মুমিনুল সর্বোচ্চ ৭৭ রান করেন। এছাড়া মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৬৬, মুশফিক ৪৪, তামিম ৩৯, সাব্বির রহমান ৩০, লিটন ২৫ এবং শেষ দিকে মোস্তাফিজুর রহমান করেন ১০ রান।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কেশব মহারাজ তিনটি এবং দুটি করে উইকেট নেন মরনে মরকেল ও ক্যাগিসো রাবাদা। একটি করে উইকেট নেন ডোয়াইন অলিভিয়ে ও আন্দিলে ফেলুকওয়ে।
প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেটে ৪৯৬ রান তোলে ইনিংস ঘোষণা করে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দারুণ ব্যাটিংয়ের দিনে ডাবল সেঞ্চুরি মিসের হতাশায় পুড়েন ডিন এলগার। ১৯৯ রান করে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ব্যাটসম্যান এবং সবমিলিয়ে ১২তম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্টে ১৯৯ রানের ইনিংস খেলেন এলগার। এদের মধ্যে দুজন সঙ্গীর অভাবে ১৯৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এছাড়া আমলা ১৩৭, এইডেন মার্করাম ৯৭ রানের ইনিংস খেলেন। টেম্বা বাভুমা ৩১ এবং ফাফ ডু প্লেসিস ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন।